ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনলাইন গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি সম্পাদিত।
২০২৬ সালের ২৪ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে চলা বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একটি ভিডিও পোস্ট করেন নরেন্দ্র মোদি। সে ভিডিও সম্পাদিত করে নতুন দাবিতে ছড়ানো হয়েছে।
ফেসবুকে “শেখ হাসিনা অনলাইন মেমোরিয়াল পার্লামেন্ট” নামের একটি পেজ থেকে গত ২ নভেম্বর একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা, “ভারতের অনলাইন গণমাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বক্তব্য দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।” ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে অবশ্যই যাবেন। ভারতীয় আর্মি, মার্কিন আর্মি, ব্রিটিশ আর্মি এবং রাশিয়ান আর্মির নিরাপত্তা দল ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরত আসবে। আমি আপনাদের, বাংলাদেশের জনগণদের ভরসা দিচ্ছি। এছাড়াও আমি বাংলাদেশকে হুমকি দিচ্ছি, যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেরত আসেন তবে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না করা হয়। আমি হুমকি দিচ্ছি।”
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, হিন্দিতে বলা বক্তব্যের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির ঠোঁটের নড়াচড়ার মিল নেই। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত, পোস্টটি ১ হাজার ৩০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে এবং ভিডিওটি দেখা হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজারের বেশিবার।
ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪, ৫) ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, ইউটিউবে নরেন্দ্র মোদির চ্যানেলে গত ২৪ জুনে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, “ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত, কঠোর শাস্তি: প্রশ্নপত্র ফাঁস মাফিয়াদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর।”
ভিডিওটির বিবরণে লেখা, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, দায়ী ব্যক্তিদের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রেখে সরকার একটি নতুন বিল আনছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষও যাতে নষ্ট না হয় তা নিশ্চিত করা, যার জন্য রেকর্ড সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ এবং দ্রুত ফল প্রকাশ করা হবে।”
এই ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদির পোশাক, পেছনে থাকা ভারতের পতাকা এবং দেয়ালের শিল্পকর্মের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। এছাড়া ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদির ঠোঁটের নড়াচড়ার সঙ্গে, অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির মিল রয়েছে। নরেন্দ্র মোদির এক্স অ্যাকাউন্টেও ভিডিওটি পাওয়া যায়।

একাধিক (১, ২, ৩) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ভিডিওটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দ্য হিন্দুর গত ২৪ জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই, ২০২৬) নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার কথিত অনিয়ম নিয়ে সিজেপি র নেতৃত্বাধীন আন্দোলন অব্যাহত থাকার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে “আরও কঠোর” ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক্সে শেয়ার করা একটি সেলফি ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, অপরাধীদের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রেখে তৈরি একটি খসড়া বিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘আমি দ্রুত আদালত বা ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছি।’”

এর আগেও নরেন্দ্র মোদিকে জরিয়ে একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।
অর্থাৎ, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি প্রশ্নফাঁস নিয়ে নরেন্দ্র মোদির পোস্ট করা একটি ভিডিও থেকে সম্পাদিত।

