সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
Fact-check: Viral video falsely claims a Jubo Dal leader abducted an expatriate’s wife; the footage actually shows a woman being tortured by her husband and father-in-law in Dashmina, Patuakhali.

ভিডিওটি প্রবাসীর স্ত্রীকে যুবদল নেতার তুলে নিয়ে যাওয়ার নয়

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

যুবদলের সভাপতি এক প্রবাসীর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে- এমন দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে, ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রাপ্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইঞ্জিনচালিত একটি টমটমে এক নারীকে নির্যাতন করছিলেন ভুক্তভোগীর স্বামী ও শ্বশুর। গত ১০ জুন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১৩ জুন ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একজন লোক এক নারীকে হিঁচড়ে নিয়ে ইঞ্জিনচালিত একটি টমটমের সিটের সাথে রশি দিয়ে বাঁধছেন। এ ঘটনায় আশপাশের সবাই চিৎকার করছে। ভিডিওর ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “প্রবাসীর স্ত্ৰীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন যুবদল সভাপতি রফিক!!”

Fact-check: Viral video falsely claims a Jubo Dal leader abducted an expatriate’s wife; the footage actually shows a woman being tortured by her husband and father-in-law in Dashmina, Patuakhali.
ভুয়া দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত ভিডিওটি অন্তত ৮৮ হাজারবার দেখা হয়েছে। পোস্টটি শেয়ার করা হয়েছে ১১০০ এর বেশিবার। একাধিক ব্যবহারকারী ঘটনাটি সত্য ভেবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, “নতুন বাংলাদেশ”, আরেকজন লিখেছেন, “দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া তামাশা দেখো”।  

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (,) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির একাধিক কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেলে ১১ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা, “নির্যাতন করে টমটমে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল গৃহবধূকে, অভিযানে আটক শ্বশুর ও স্বামী”। ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের প্রতিবেদনের প্রথম ৫ সেকেন্ডের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। যদিও প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর ছবি ঝাপসা করে দেওয়া রয়েছে। 

Fact-check: Viral video falsely claims a Jubo Dal leader abducted an expatriate’s wife; the footage actually shows a woman being tortured by her husband and father-in-law in Dashmina, Patuakhali.
প্রথম আলোয় মূল ভিডিওর আসল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

বিস্তারিত যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে দেখা যায়, একাধিক সংবাদমাধ্যমে (,,,,) ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ২০২৬ সালের ১০ জুন এক গৃহবধূকে টমটমের ওপর হাত–পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর স্বামী শাহ জামাল (৩৫) ও শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে (৭০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উল্লেখ্য, কোনো সংবাদমাধ্যমে ভুক্তভোগীর স্বামীকে প্রবাসী বলা হয়নি, এবং অভিযুক্তদের কেউ যুবদলের নেতা- এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

Fact-check: Viral video falsely claims a Jubo Dal leader abducted an expatriate’s wife; the footage actually shows a woman being tortured by her husband and father-in-law in Dashmina, Patuakhali.
একাধিক সংবাদমাধ্যমে আসল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

অর্থাৎ, প্রবাসীর স্ত্রীকে যুবদল নেতার তুলে নেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, এক নারীকে ভুক্তভোগীর স্বামী ও শ্বশুরের নির্যাতনের দৃশ্য এটি।

আরো কিছু লেখা