গত ৩০ জুলাই সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে নাগরিক টিভি ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য নিউজের প্রতিবেদনে একটি গাড়ি ভাঙচুরের দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ওই দৃশ্যটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের বিহারের।
গত ৩০ জুলাই নাগরিক টিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রতিবেদন (আর্কাইভ লিংক) প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “সিলেটে এনসিপির নেতৃবৃন্দের সাথে যা ঘটেছিল!” প্রতিবেদনের প্রথম ১৩ সেকেন্ডে একটি গাড়িতে হামলার দৃশ্য দেখানো হয়।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য নিউজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও ১৭ সেকেন্ডের আরেকটি প্রতিবেদন (আর্কাইভ লিংক) প্রকাশিত হয়। যার শিরোনামে ছিল, “সিলেটের গোলাপগঞ্জে হামলার পর ভেঙে চুরমার সারজিসের গাড়ি।” প্রতিবেদনে প্রথম ১২ সেকেন্ড পর্যন্ত গাড়িতে ভাঙচুরের একই দৃশ্য যুক্ত করা হয়েছে।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও ১৩ সেকেন্ডের একই ভিডিও পোস্ট করা হয়। পোস্টদাতা লিখেছেন, “ব্রেকিং নিউজ সিলেটের গোলাপগঞ্জে সারজিস আলম কে সাধারণ জনগণের গণধোলাই…😀”। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টটি সাড়ে তিনশ বার শেয়ার হয়েছে। ১ হাজার দুইশর বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল, পেজ এবং গ্রুপ (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭) থেকে একই দাবিতে এই দৃশ্যটি পোস্ট করা হয়।

অনুসন্ধানে ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ডিসমিসল্যাব ইউটিউবে ‘হামিরপুর টাইমস নিউজ’ নামের একটি চ্যানেল থেকে পোস্ট হওয়া একটি শর্টস ভিডিও খুঁজে পায়। গত ২৫ জুলাই প্রকাশিত ভিডিওর শিরোনাম বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “ছাপরায় বিহার বন্ধ (ধর্মঘট) চলাকালে বিক্ষোভকারীরা একটি ইনোভা গাড়িতে হামলা চালিয়েছে।” এই ভিডিওর দৃশ্যপটের সঙ্গে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ব্যবহৃত ভিডিও ফুটেজের হুবহু সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার ইউটিউব চ্যানেলেও ডিসমিসল্যাব একটি লাইভ প্রতিবেদন খুঁজে পায়। ২৫ জুলাই প্রচারিত এই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “বিহারের ছাপরায় ছাত্র আন্দোলন ঘিরে বিস্ফোরক পরিস্থিতি!” এই প্রতিবেদনের ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ড থেকে ৬ মিনিট ২৬ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের দৃশ্যই ব্যবহার হয়েছে দুই সংবাদমাধ্যমে।
অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে রাজধানী দিল্লিসহ গোটা ভারতজুড়ে বিক্ষোভের অংশ হিসেবে গত ২৫ জুলাই বিহারজুড়ে ‘বিহার বন্ধ’ কর্মসূচির পালন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবরও পাওয়া যায়। সেদিন রাজ্যের ছাপরায় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটেছিল।

অর্থাৎ, বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলার দৃশ্য বলে যে ফুটেজটি প্রচার করছে, সেটি আসলে ভারতের বিহারের ঘটনা।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই গোলাপগঞ্জে সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে চলে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে।

