
একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে— শুধু “জয় বাংলা” স্লোগানের কারণে এক ছোট শিশুকে আটক করে হেনস্তা করেছে পুলিশ। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়।
সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ একটি শিশুর সঙ্গে জোরজবরদস্তি করছে। ভিডিও-র উপরে এবং পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “কত সাহস এই পাকিস্তানের মাটিতে শিশুটি জয় বাংলা শ্লোগান দিয়েছে!”
মন্তব্যে একজন পুলিশ সম্পর্কে লিখেছেন, “কথাটা সত্য কি করে এটি সাহস হল। এইটুকু বাচ্চার পাকিস্তানে মাঠিতে পাকিস্তানের জারজ সন্তানদের সামনে জয় বাংলা স্লোগান দেয়ার।” আরেকজন লিখেছেন, “পাকি পুলিশ।” কেউ আবার বলছেন ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।

এ পর্যন্ত ভিডিওটি ২৮ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে, শেয়ার হয়েছে ২৩০বার। অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “এরা কারা???ছোট ,ছোট বাচ্চাগুলোকে বুড়া,দামড়াগুলা ভয় পায়। (বানান অপরিবর্তিত)”
একই দাবিতে ভিডিওটি ফেসবুক (১, ২, ৩) ছাড়াও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যম এক্স (১, ২, ৩) ও ইনস্টাগ্রামে (১, ২, ৩)। এর মধ্যে এক্সের একটি পোস্ট ২৩ বার রিপোস্ট করা হয়েছে।
এর আগেও ভারত থেকে পরিচালিত জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং নামের এক এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রচারিত হয়েছিল। এতে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে একটি ছোট হিন্দু শিশুকে দিয়ে জোরপূর্বক কালেমা পড়ানো হচ্ছে। ভিডিওটি ৩৫ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে, শেয়ার করা হয়েছে ১২০০ বার।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কিছু দৃশ্য নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। এতে ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই এটিএন বাংলায় প্রকাশিত এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওর সঙ্গে গত বছর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের দৃশ্য পুরোপুরি মিলে যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই ঘটনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে গত বছরের ১৮ জুলাই প্রকাশিত এ ঘটনার একাধিক প্রতিবেদন (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। ভিডিওতে শিশুর হাত ধরে থাকা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, গত ৬ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা দিনের ঘটনা এটি। শিশুটি এনসিপির নেতৃবৃন্দের কাছাকাছি চলে গেলে, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, তার কাছে মাদক পাওয়া যায়, যা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে দেখা যায় ভিডিওতে।
এর আগেও একই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার দাবিতে। এ সময় ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমর স্ক্যানার।
অর্থাৎ, “জয় বাংলা” স্লোগানের কারণে শিশুকে পুলিশের হেনস্তার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ভিন্ন ঘটনার।