পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এমন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি ১৯৪৭ সালের এবং জিন্নাহর সঙ্গে করমর্দনরত ব্যক্তি জিয়াউর রহমান নন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর ওপর লেখা রয়েছে, “ভারত থেকে ভাগ হয়ে ‘মুসলিম রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠাকারী মুসলিম মহান নেতা” (বানান অপরিবর্তিত)। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে দেখা করার জন্য জিয়াউর রহমান লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।”

ভিডিওর প্রথম কয়েক সেকেন্ডে জিন্নাহকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো অনেকের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায়। ভিডিওর চতুর্থ সেকেন্ডে একজন ব্যক্তিকে লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে তাকে জিয়াউর রহমান হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া পড়েছে ৩০ হাজার ৯০০, শেয়ার হয়েছে ৫ হাজারের বেশি এবং দেখা হয়েছে ৯ লাখের বেশি বার।
একই দাবিতে এই হ্যান্ডশেকের ভিডিও ফেসবুকের একাধিক পেজ (১, ২, ৩) ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট (১, ২, ৩) থেকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ব্রিটিশ পাথে (British Pathé) এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৪ সালে আপলোড করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ব্রিটিশ পাথে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিউজরিল আর্কাইভ, যেখানে ১৮৯৬ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সময়ের ৮৫ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক ফিল্ম সংরক্ষিত আছে।
ব্রিটিশ পাথের ভিডিওটির শিরোনামে লেখা, “পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেলের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান (১৯৪৭)” (মূল: Swearing In Ceremony Of Pakistan Governor General. (1947)। ৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর কিছু দৃশ্যের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওর দৃশ্যের হুবহু মিল লক্ষ্য করা যায়।

ভিডিওর ৫০তম সেকেন্ডে জিন্নাহর সঙ্গে এক ব্যক্তিকে (জিয়াউর রহমান দাবি করা) করমর্দন করতে দেখা যায়। একই ব্যক্তিকে ভিডিওর ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত ক্লোজ শটেও দেখা যায়, যেখানে সামনের সারিতে ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম মন্ত্রীসভার আইন ও শ্রম মন্ত্রী যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল ও শিক্ষা মন্ত্রী ফজলুর রহমান।

ওই ক্লোজ শটের কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ছবি শেয়ারিং সাইট ফ্লিকারে ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি আপলোডকৃত একটি রঙিন সংস্করণ পাওয়া যায়, যার ক্যাপশনে লেখা “ফজলুর রহমান এবং মণ্ডল”। ছবিতে যাকে জিয়াউর রহমান দাবি করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চেহারার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি ডিসমিসল্যাব।
বয়সের হিসাবেও মিলে না দাবি
পাকিস্তানের তৎকালীন রাজধানী করাচিতে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হিসেবে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট। জিয়াউর রহমানের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি। অর্থাৎ ওই অনুষ্ঠানের সময় তার বয়স ছিল প্রায় ১১ বছর সাত মাস। অথচ ভিডিওতে জিন্নাহর সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে হাত মেলাতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিটি দেখতে পূর্ণবয়স্ক ও মধ্যবয়সী।
অর্থাৎ, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তি জিয়াউর রহমান হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

