মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
jashore hindu house fire

যশোরের সনাতন পল্লীতে আগুনের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি রাঙামাটির

মোহাম্মদ আল মুকিত

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

যশোরের সনাতন পল্লীতে আগুন দেওয়ার দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। গত ৩ আগস্ট রাঙামাটির লংগদুতে ফার্নিচার কারখানা ও বসতঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার দৃশ্য এটি। আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের কেউই সনাতনধর্মী নন।

ফেসবুকের ‘মো মাসুদ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ’ নামের একটি প্রোফাইল থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “যশোর মনীরামপুরে সনাতন পল্লীতে ২৫ টি বাড়িতে আ”গুন দিয়েছে জ”ঙ্গিরা” (বানান অপরিবর্তিত)। ভিডিওতে রাস্তার পাশের বসতবাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ১৩ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং দুই শতাধিক বার শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুকে একাধিক প্রোফাইল (, , , , , ) থেকেও ভিডিওটি পোস্ট হতে দেখা গেছে।

যাচাইয়ে ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে গত ৩ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। “রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ আগুনে পুড়লো বসতঘর ও দোকান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি” শিরোনামের ওই ভিডিওর নবম সেকেন্ড থেকে এবং পরবর্তী কিছু দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মিল রয়েছে।

“লংগদুতে আগুনে ছাই দুই ফার্নিচার কারখানা, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি” শিরোনামে গত ৩ আগস্ট প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির পঞ্চম সেকেন্ড থেকে দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্য মিলে যায়।

প্রথম আলো ও যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেল প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে গত ৩ আগস্ট প্রকাশিত এক পোস্টে বলা হয়, “রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার গাঁথাছড়া এলাকায় একটি আসবাবপত্র তৈরির কারখানায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সুত্রপাত ঘটে।…উক্ত অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর এবং তিনটি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।”

একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন (, , , , ) পাওয়া যায়। চট্টগ্রামভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দৈনিক চট্টলার খবরের ওয়েবসাইটে গত ৩ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী আলালের কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের তরিকুল বাদশা ও রাসেলের ফার্নিচার কারখানা ও বসতঘরে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আলালের ছোট ভাই মোঃ বরকত উল্লাহের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কেউ হিন্দু ধর্মের অনুসারী নন।

অর্থাৎ, রাঙামাটির লংগদুতে ফার্নিচার কারখানা ও বসতঘরে আগুন লাগার দৃশ্যকে যশোরের সনাতন পল্লীতে আগুন দেওয়ার দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

আরো কিছু লেখা