সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
This article is more than 2 months old
একই অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও কখনো ছড়াচ্ছে জামায়াত কর্মীর বাড়িতে লাগার দাবিতে, কখনো বিএনপির

একই ভিডিও কখনো ছড়াচ্ছে জামায়াত কর্মীর বাড়িতে আগুন লাগার দাবিতে, কখনো বিএনপির

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও সম্প্রতি দুইটি পাল্টাপাল্টি দাবিতে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, রংপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন দিয়েছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। আবার অন্যদিকে দাবি করা হচ্ছে, জামায়াত কর্মীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিএনপি। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে মূল ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ঘটনাটি চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারির। সেদিন ফেনীর বিরিঞ্চিতে চুলা থেকে একটি বাড়িতে আগুন লাগে।

ফেসবুকে পাবলিক নিউজ টোয়েন্টিফোর নামের একটি পেজ থেকে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে রাতের বেলায় একটি ঘর আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে একজন ব্যক্তিকে আঞ্চলিক ভাষায় বলতে শোনা যাচ্ছে “আহারে! পুরো ঘর শেষ। আশেপাশের ওগুলোতে ধরে যাবে।” পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “রংপুরে বিএনপি নেতার বাড়ি আ*গু*ন দিলেন জামাত শিবিরের নেতা কর্মীরা”। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ২ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ৫ হাজার ৯০০ বারের অধিক শেয়ার করা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি। 

অন্যদিকে একইদিনে ফেসবুকের আরেকটি পেজ থেকে একই ভিডিওটি প্রচার করা হয়। ভিডিওর ভেতরে ও ক্যাপশনে লেখা, “জা/মায়াত কর্মীর বাড়িতে আ/গুন দিলো বি/এনপি।” এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ভিডিওটি ৫৪ হাজারের বেশিবার দেখেছে ব্যবহারকারীরা এবং ২ হাজারের অধিক শেয়ার করেছে। এই ভিডিওতে ৩ হাজার ২০০ এর বেশি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ব্যবহারকারীদের ১১৭টি মন্তব্য দেখা যায় এই পোস্টে।

একই অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও কখনো ছড়াচ্ছে জামায়াত কর্মীর বাড়িতে লাগার দাবিতে, কখনো বিএনপির
একই ভিডিও ছড়িয়েছে দুই পাল্টাপাল্টি দাবিতে।

এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “বিএনপি আর আওয়ামী লীগের চরিত্রের মধ‍্যে কো পার্থক‍্য নাই ।তাীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই ।” (বানান অপরিবর্তিত)। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “দুর্নীতি চাঁদাবাজ তারা কি বুঝবে ন্যায় অন্যায়।” ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও পেজ (, , , ) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ভিডিওর বিবরণে লেখা,“ফেনীতে বসতঘরে আগুন!ফেনী সদর এলাকার বিরিঞ্চির খন্দকার বাড়িতে রাত আনুমানিক ৯:০০টার দিকে ঘটনা ঘটে।সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ধারনা করা হচ্ছে সম্ভবত কয়েল থেকে আগুন লাগে। তবে ঘরটি প্রায় পুরোপুরি ভষ্মিভূত হয়ে যায়। এখানে রাজনৈতিক কোন সমস্যা নেই বলে ধারনা করা হচ্ছে।”  ১৪ সেকেন্ডের ভিডিওটির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিও দুইটির হুবহু মিল রয়েছে।

আরও বিস্তারিত যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে অনলাইন গণমাধ্যম ‘দৈনিক ফেনী’-র ফেসবুক পেজে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ক্যাপশনে লেখা, “আ/গুন কেড়ে নিল সব, ফেনীর বিরিঞ্চিতে নিঃস্ব নবদম্পতি”। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক রাত ৭.২০ মিনিট এর দিকে চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র থেকে শুরু করে নগদ অর্থসহ সবকিছু পুড়ে যায়। প্রতিবেদনে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

একই অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও কখনো ছড়াচ্ছে জামায়াত কর্মীর বাড়িতে লাগার দাবিতে, কখনো বিএনপির
দৈনিক ফেনীর ফেসবুক পোস্ট (বামে) এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটির পোস্ট (ডানে)।

একই ঘটনায় “ফেনী প্রত্যয়” নামের একটি পেজের লাইভ ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওতে লাকী আক্তার নামের ভুক্তভোগী এক নারীকে বলতে শোনা যায়, আগুনে তাদের ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, ওয়াই-ফাই মেশিন, নগদ অর্থসহ সবকিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। তারা এখন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।

অর্থাৎ রংপুরে বিএনপি নেতা বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের আগুন দেওয়া বা জামায়াত কর্মীর বাড়িতে বিএনপির অগ্নিসংযোগের পাল্টাপাল্টি দাবিটি সত্য নয়। মূলত ফেনীর বিরিঞ্চিতে বসতভিটায় অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও এটি।

ইতঃপূর্বে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।

আরো কিছু লেখা