
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে ঢাকায় বোরকা পরা এক নারীকে যৌন হয়রানি করেছে একজন টুপি-পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তি। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, বরং ভারতের উত্তর প্রদেশের।
‘ন্যাচারাল লাইফস্টাইল’ নামের ফেসবুকের একটি পেজ থেকে গত ৩০ এপ্রিল ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটি গলিপথের ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় টুপি- পাঞ্জাবি পরা দাঁড়িওয়ালা এক লোক একজন মহিলার বুকে হাত দিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি ছিলো সিসিটিভি ফুটেজে রেকর্ড হওয়া একটি দৃশ্য। ভিডিওর ভেতরে লেখা, “আজ ঢাকা আমার বাসার সামনে আমার সাথে এমন হয়েছে উনাকে ধরে পুলিশে দিবেন ধরতে পারলে” (লেখা অপরিবর্তিত) পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “শু”য়োরে’র মাংস খেয়ে শু’য়ো’রের মত কাজ করতেছে 😡😡”।

এই প্রতিবেদন লেখার আগ সময় পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় দেড়লাখ বার দেখা হয়েছে এবং ১১০০ এর অধিক শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ২ হাজার ৪০০ এর অধিক ব্যবহারকারী। মন্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে অনেকে ঘটনাটি সত্য বলে ধরে নিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আপনারা বাধা ওরা জান্নাতের টিকিট এভাবে দেয়😂” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “আবার এরা বলে দেশ চালাবে..!😶😶”
অন্যদিকে “বেটার টাইমস” নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে একই ঘটনার ভিডিওটি পোস্ট করে শিরোনামে লেখা হয়, “নির্জন রাস্তায় হাঁটার সময় নারীর বুকে হাত” তবে পোস্টের কোথাও ঘটনার স্থান উল্লেখ করা হয়নি।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে ‘ইউপি তাক’ নামের একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে চলতি বছরের ১লা মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে প্রচারিত ভিডিওর স্ক্রিনশটগুলো পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের শিরোনামে ইংরেজিতে লেখা ক্যাপশনের অনুবাদের অর্থ দাঁড়ায়, “নির্জন রাস্তায় একাকী হাঁটতে থাকা এক বোরকা পরা নারীর সাথে নওশাদ পেছন থেকে এসে নোংরা আচরণ করেছে, সে এখন নিশ্চয়ই অনুতপ্ত হচ্ছে।” প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিডিওটি মূলত ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে বোরখা পরা এক নারীকে লাঞ্ছিত করার একটি দৃশ্য।

অধিকতর যাচাইয়ে একাধিক প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে, একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে দেখা যায়।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের মুঘলপুরায় বোরখা পরা এক নারীকে এক ব্যক্তি যৌন হয়রানি করে। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ৩০ এপ্রিল সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া অভিযুক্ত নওশাদকে বন্দুকযুদ্ধের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাল্টা গুলিবর্ষণের সময় অভিযুক্তের পায়ে গুলি লাগে। পুলিশ জানায়, নওশাদ তার অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি আছে।

অর্থাৎ, ভারতের উত্তর প্রদেশের ভিডিও বাংলাদেশের ঘটনা বলে প্রচার করা হচ্ছে যা সম্পূর্ণ ভুয়া।
ইতঃপূর্বে ভারতের একাধিক ঘটনা বাংলাদেশের দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ডিসমিসল্যাব।