নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check on a fake Bangla TV photocard falsely claiming a Jamaat leader divorced his wife and married his mother-in-law; the real incident involved an Indian man in Uttar Pradesh.

শাশুড়িকে বিয়ের ঘটনা ভারতীয় যুবকের, ছড়াচ্ছে জামায়াত নেতার নামে

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সংবাদমাধ্যম বাংলা টিভির লোগো দেখা যায়, এমন একটি ফটোকার্ড সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। কার্ডে দাবি করা হচ্ছে, স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করেছেন জামায়াতের এক তরুণ নেতা। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভারতীয় একটি ঘটনা নিয়ে বাংলা টিভির প্রতিবেদনের ফটোকার্ড সম্পাদিত করে ছড়ানো হয়েছে এ দাবি।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৯ জুন একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “জান্নাত এর পথে হাঁটছে জামাত ইসলামের নেতাকর্মীরা।” ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করলেন জামাতের এক তরুন নেতা।” 

Fact-check on a fake Bangla TV photocard falsely claiming a Jamaat leader divorced his wife and married his mother-in-law; the real incident involved an Indian man in Uttar Pradesh.
জামায়াত নেতার নামে ভুয়া দাবিতে ছড়ানো সম্পাদিত ফটোকার্ডের স্ক্রিনশট।

ফটোকার্ডের মাঝখানে বাংলা টিভির লোগো, ছবির নিচে তারিখ হিসেবে ৯ জুন, ২০২৬ উল্লেখ করা। ফটোকার্ডের নিচে বাংলা টিভির ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া আছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি ২২০ বার শেয়ার করা হয়েছে এবং প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ১ হাজার ২০০টির বেশি। মন্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অনেকেই সংবাদটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন এবং নিজের মতামত দিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “জামাত মানে বাটপার।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “জামাতি সব পারে, এরা ইসলামের লেভাসে ——।”

ফেসবুকের একাধিক প্রোফাইল এবং পেজ (,,) থেকে একই দাবিতে ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়। ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে বাংলা টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটের ৯ জুনের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। ৯ জুন বাংলা টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়, যেটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটির মিল রয়েছে। এ ফটোকার্ডটিতে নারীর ছবি একই থাকলেও পুরুষের ছবি ভিন্ন দেখা যায়। এছাড়া ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা ছিল, “স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করলেন যুবক।”

Fact-check on a fake Bangla TV photocard falsely claiming a Jamaat leader divorced his wife and married his mother-in-law; the real incident involved an Indian man in Uttar Pradesh.
আসল সংবাদের ফটোকার্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে প্রকাশিত মূল ছবির স্ক্রিনশট।

এ পোস্টটির কমেন্টে এ নিয়ে লিখিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ৯ জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করলেন যুবক।” প্রতিবেদনে বলা হয়, “ভারতে এক যুবক নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সাবেক শাশুড়িকে বিয়ে করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি উত্তর প্রদেশের কানপুর দেহাত জেলার আকবরপুর এলাকার।”

এ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গেও ছড়িয়ে পড়া ছবিটির নারীর মিল রয়েছে। একাধিক (,,,) জাতীয় গণমাধ্যমেও ঘটনাটিকে ভারতের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করতে দেখা যায়। 

অধিকতর যাচাইয়ে দেখা যায়, ভারতের একাধিক (,,,) গণমাধ্যম ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ভারত-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার গত ৮ জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “শাশুড়িকে বিয়ে করলেন উত্তরপ্রদেশের এক ব্যক্তি, ভাইরাল ভিডিওতে চাইলেন আশীর্বাদ।” প্রতিবেদনে বলা হয়, “সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে কানপুর দেহাতের এক মহিলা ও তার জামাইকে দেখা যাচ্ছে, যারা পারস্পরিক সম্মতিতে কোর্ট ম্যারেজ করেছেন বলে দাবি করেছেন।” 

অর্থাৎ, ভারতীয় যুবকের শাশুড়িকে বিয়ের ঘটনা ছড়াচ্ছে জামায়াত নেতার নামে।

আরো কিছু লেখা