সম্প্রতি ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জি নিউজের একটি ফেসবুক হ্যান্ডেলে দাবি করা হয়— বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। সম্প্রতি দলটিকে নিষিদ্ধ করার কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
গত ২ আগস্ট ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ জি নিউজ ইংলিশ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। এতে ইংরেজিতে যা লেখা তার বাংলা করলে দাঁড়ায়— “বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।” পোস্টে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জারি করা হয় বলে জানানো হয় এই পোস্টে।

জি নিউজ লিখেছে, “বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এলো। সরকার উল্লেখ করেছে, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে জড়িত থাকার তথ্য ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।” এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত পোস্টটি শতাধিক বার শেয়ার হয়েছে।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর একই দাবিতে একই পোস্ট করা হয়েছে ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডিএনএ ইন্ডিয়ার ভেরিফায়েড ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও। এই পোস্টের ফটোকার্ডে লেখা, “জামায়াতের ওপর সন্ত্রাসবাদের তকমা। জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা।” পোস্টে একজন মন্তব্য করেছেন, “এখানে আমাদের জাতির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে একটি জামায়াত এসে পৌঁছেছে।”

তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার কোনো ঘোষণা সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরসহ এর সব অঙ্গ-সংগঠনকে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই বছরের ২৮ আগস্ট সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “‘যেহেতু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং উহার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাস ও সহিংসতায় সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় নাই; এবং যেহেতু সরকার বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং উহার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত নহে’ তাই দলটির নিষিদ্ধ ঘোষণা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হলো।”
অর্থাৎ, জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্রসংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার যে দাবি ভারতীয় দুই সংবাদমাধ্যম জি নিউজ ও ডিএনএ ইন্ডিয়া করেছে, তা ভুয়া।

