ফেসবুকে ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি।
“এআই অয়ন জিরো নাইন” (AI Ayan09) নামের একটি ফেসবুক পেজে ২০ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “একজন নাস্তিক মুনাফিকরা ইসলামের এতটা ক্ষতি করতে পারে যতটা ক্ষতি করেছে জামাত।” ভিডিওতে দেখা যায়, একটি আলোকসজ্জিত মঞ্চে শায়খ আহমাদুল্লাহ মাইক্রোফোনে বক্তব্য রাখছেন। সামনে বসা মানুষ মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছেন এবং তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে সমস্বরে সাড়া দিচ্ছেন।
অডিওতে বলতে শোনা যায়, “এই জামায়াত শিবির যতটা ইসলামের ক্ষতি করেছে, একজন নাস্তিক, মুনাফিকরাও ততটা ইসলামের ক্ষতি করতে পারে নাই। তারা বলে আমরা ইসলামের শরীয়া আইন চাই, অথচ মেয়েদেরকে তারা এতটাই পছন্দ করে জামায়াতের প্রত্যেক নেতাকর্মী মেয়ে পাগল। মেয়ে দেখলে আল্লাহর দেওয়া ফরজ বিধানও তারা ভুলে যায়।”

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ওই ভিডিও তিন লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। শেয়ার হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি। পোস্টে প্রতিক্রিয়া ছিল ১২ হাজারের বেশি। মন্তব্যে কিছু ব্যবহারকারী ভিডিওটি এআই বলে দাবি করলেও কেউ কেউ লিখেছেন, “আপনার কথা ১০০% ঠিক”, “ধন্যবাদ মাওলানা সাহেব আপনাকে এই সত্য কথাটা বলার জন্য”, “হুজুর ঠিক বলেছেন” ইত্যাদি।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শায়খ আহমাদুল্লাহর সামনের মাইকে থাকা নীল রঙের নেমপ্লেটের লেখাগুলো স্থির নয়। ভিডিওর একটি দৃশ্যে মোবাইল নম্বর শুরুর আগে ‘মোবার’ লেখা দেখা যায়, কিন্তু ফ্রেম বদলাতেই অন্য একটি দৃশ্যে তা পরিবর্তন হয়ে ‘মোবাঃ’ বা ‘মোকাঃ’ হয়ে যায়। একই ভিডিওর বিভিন্ন ফ্রেমে নেমপ্লেটে লেখা মোবাইল নম্বরটিও অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এছাড়া, প্যান্ডেলে বসা সামনের সারির বেশ কয়েকজন ব্যক্তির চেহারার ধাঁচ প্রায় একইরকম। সাধারণত এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ছবি বা ভিডিও তৈরি করার সময় এ ধরনের ত্রুটি, বিকৃতি বা অসংগতি তৈরি হয়।

ভিডিওর কিছু কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করলে, ‘ইসলামিক ইকো টেলিভিশন’ (Islamic Echo TV) নামের ফেসবুক পেজে একই পোশাক পরা আহমাদুল্লাহ ও তার সামনে একই নামের মাইক্রোফোন থাকা আরও ভিডিও পাওয়া যায় (১, ২, ৩)। তবে সেসব ভিডিওতে তাকে এমন মন্তব্য করতে শোনা যায়নি।
অধিকতর নিশ্চয়তার জন্য ভিডিওটি একাধিক এআই শনাক্তকরণ টুলে পরীক্ষা করা হয়। এআই কন্টেন্ট বিশ্লেষণকারী টুল ‘হাইভ ডিটেক্ট’ (Hive Detect)-এ পরীক্ষা করে দেখা যায়, ভিডিওটির দৃশ্য ৯৯.৯ শতাংশ এবং কণ্ঠ বা স্পিচ ৯৬ শতাংশ এআই-জেনারেটেড হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গুগলের এআই শনাক্তকরণ টুল ‘সিন্থআইডি’ (SynthID)-তে পরীক্ষা করলে সেখানেও ভিডিওটির অডিও এবং ভিজ্যুয়াল উভয় অংশেই ‘সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক’ বা এআই-এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
অর্থাৎ,জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি।

