ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক ক্যাপ্টেনের ওপর চীনের সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে, এমন দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি আসলে ২০২৫ সালে মিয়ানমারের দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে হওয়া হাতাহাতি নিয়ে।
ফেসবুকের একটি পেজ থেকে গত ৬ সেপ্টেম্বর ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “ভারতের সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন কে মার/লো চীন সেনাবাহিনী।” (বানান অবিকৃত) ভিডিওতে সামরিক পোশাক পরা দুই ব্যক্তিকে হাতাহাতি করতে দেখা যায়। তাদের চারপাশে সামরিক ও সাধারণ পোশাক পরা কিছু ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং প্রায় ছয়শ বার শেয়ার করা হয়েছে।

একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও পেজ (১, ২) থেকেও ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে ভিডিওটি থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে ‘আরাকা ইউটিউব চ্যানেল’ (Arakha Youtube Channel) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রকাশিত ভিডিওটির বার্মিজ ভাষার শিরোনাম বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “কেআইএ ও টিএনএলএর মধ্যে স্থলভাগে উত্তেজনা তৈরির পর মুষ্টিযুদ্ধ করে সমাধান।” ওই ভিডিওর কিছু অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।

আরও অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিয়ানমার নাউ’-এর (Myanmar Now) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের উত্তর শান রাজ্যে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) এবং তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির সূত্রপাত হয়। টিএনএলএ সদস্যরা একটি কেআইএ চেকপয়েন্ট জোর করে অতিক্রম করার চেষ্টা করলে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
অর্থাৎ মিয়ানমারের দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যকার হাতাহাতির পুরোনো ভিডিওকে ভারতীয় সেনার ওপর চীনের সেনাবাহিনীর হামলার ঘটনা বলে প্রচার করা হচ্ছে।

