
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, মুসলমান নিয়ে কটূক্তি করায় ভারতের সংসদে “সুবিন্দু ভিকারীর” দিকে জুতা নিক্ষেপ করেছেন মুসলিম নারী সাংসদ। ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০১১ সালে আফগানিস্তানের সংসদে দুজন নারী সাংসদ নাজীফা জাকি এবং হামিদা আহমাদযাইয়ের মধ্যকার বিবাদের দৃশ্য।
একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ২০ মে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে বলা হয়, “ভারতে সংসদে মুসলমান নিয়ে কটুক্তি করলে জুতা নিক্ষেপ করে, সুবিন্দু ভিকারীর উপর মুসলিম এমপি নারী সাংসদ” (বানান অপরিবর্তিত)। ১৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সংসদে এক নারী সদস্য আরেক নারী সদস্যের দিকে জুতা নিক্ষেপ করেন। পাল্টা জবাবে সে নারী একটি বোতল সদৃশ জিনিস ছুঁড়ে মারেন। এরপর তারা মারামারি শুরু করলে, একাধিক ব্যক্তি তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। ভিডিওর ১১ সেকেন্ডে দেখা যায়, একাধিক পুরুষ ব্যক্তি মারামারি করছেন।

ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪, ৫) ব্যক্তিগত প্রোফাইল, গ্রুপ, পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ইনস্টাগ্রামের একাধিক (১, ২) অ্যাকাউন্ট থেকেও একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
দাবির সত্যতা যাচাইয়ে কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখলে ২০১১ সালের ৫ জুলাইয়ে আফগানিস্তান-ভিত্তিক টিভি মাধ্যম “টলো টিভি” নামের একটি চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও পাওয়া যায়। ৩ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের এই ভিডিওর ২ মিনিট ২ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট ১২ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের সঙ্গে ছড়ানো ভিডিওটির মিল আছে।

অধিকতর যাচাইয়ে দেখা যায়, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক (১, ২, ৩, ৪) প্রতিবেদন পাওয়া যায়। আফগানিস্তান-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম “দ্য আউটলুক আফগানিস্তান” ২০১১ সালের ৬ জুলাইয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ বিষয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, “মঙ্গলবার আফগানিস্তানের পার্লামেন্টে দুই নারী এমপির মধ্যে একটি কুরুচিপূর্ণ হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সম্ভবত অন্যতম একজন ভাইস-প্রেসিডেন্টকে কেন্দ্র করে শুরু হয় এই ঝগড়া। স্তব্ধ সহকর্মীরা এসে তাঁদের টেনে আলাদা করার পর ঝগড়া থামে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘টলো নিউজ’-এ প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, আফগানিস্তানের সাধারণ কালো পোশাক ও মাথায় স্কার্ফ পরিহিত সাবেক আর্মি জেনারেল নাজীফা জাকি তাঁর সহকর্মী এমপি হামিদা আহমাদজাইয়ের সাথে প্রথমে তর্কে জড়ান এবং পরে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর দিকে একটি পানির বোতল ছুড়ে মারেন।”

একই ভিডিও নিয়ে মালায়লাম ভিত্তিক তথ্য যাচাইকারী সংস্থা “ফ্যাক্ট ক্রেসেন্ডো” এর ২০২৫ সালের ১৭ মে তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, “একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে পাকিস্তানি সংসদের সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতি হতে দেখা যাচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, এই ফুটেজটি পাকিস্তানি সংসদের নয়, বরং আফগানিস্তানের।” অর্থাৎ, এ ভিডিওটি ২০২৫ সালে পাকিস্তানের সংসদের দাবিতেও ছড়িয়েছিল, বর্তমানে এটি ভারতের সংসদের দৃশ্য দাবিতে ছড়াচ্ছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১৫ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দেন বিধানসভার অধিবেশন এবার সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
অর্থাৎ, আফগানিস্তানের নারী সাংসদের বিবাদের ভিডিও ছড়াচ্ছে ভারতের সংসদের দৃশ্যের দাবিতে।