
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি এক ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে— ভারতে কয়েকজন হিন্দু ছেলে মুসলিম মেয়ের ওপর নির্যাতন করছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, এটি একটি অভিনয়ের দৃশ্য, বাস্তব ঘটনা নয়। একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে বিনোদনমূলক কনটেন্ট হিসেবে এসব সাজানো ভিডিও প্রচারিত হয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২৪ সেকেন্ডের এক ভিডিওতে দেখা যায়, কতিপয় যুবক এক তরুণীকে মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “ভাই, এইসব ভিডিও আপনারা ধাক্কাই তো মারবেন ভাই। আপনাদের কোনো না কোনো কারওর না কারও বোন হইতে পারতো। দেখেন, ইন্ডিয়া আসামে একটা আমার মুসলমান বোনের উপরে কীরকম নির্যাতন করতেছে কিছু উক্তবাদী হিন্দুরা ভাই। ভিডিওটা সর্বোচ্চ শেয়ার করবেন যে মুসলমান ভাইয়েরা এই ভিডিওটা দেইখা প্রতিবাদ করতে পারে, ভাই।”

এ পর্যন্ত ভিডিওটি আটাশ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে, পোস্টটি শেয়ার হয়েছে এক হাজার সাত শত বারের বেশি। মন্তব্যে তাদের শাস্তির দাবি জানাতে দেখা যায় অনেককে। পোস্টে একজন মন্তব্য করেছেন, “তাদের কঠিন বিচার হওয়ার দরকার।” আরেকজন লিখেছেন, “হিন্দুদের সাথে মুসলমানের যুদ্ধ ছাড়া কোন কিছুর সমাধান হবে না।”
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স সার্চ করলে আশু প্র্যাংকস্টারশর্টস নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত ১৭ এপ্রিল এই অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট হতে দেখা যায়। পোস্টের হ্যাশট্যাগে প্র্যাংক লেখা দেখা যায়। ভিডিও-এর দৃশ্য, ঘটনা, ব্যক্তি, তাদের পোশাক ছড়িয়ে পড়া ভিডিও-এর সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।

ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি বিশ্লেষণ করলে ডিসমিসল্যাব দেখতে পায়, চ্যানেলটি থেকে প্রায় নিয়মিত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করা হয়। একই ব্যক্তিকে একাধিক ভিডিওতে (১, ২) দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন। এই ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এর ইন্ট্রো থেকে জানা যায়, এটি হরিয়ানার এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের অ্যাকাউন্ট। মজার ছলে কোনো নাটকীয় পরিস্থিতি বা কৌতুকের ভিডিও প্রচার করা হয় এই অ্যাকাউন্ট থেকে।

অর্থাৎ, ভারতে কয়েকজন হিন্দু ছেলের মুসলিম মেয়ের ওপর নির্যাতনের দাবিতে প্রচার করা ভিডিওটি বিনোদনমূলক চ্যানেলের জন্য তৈরি অভিনয়ের দৃশ্য, কোনো বাস্তব ঘটনা নয়।