
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টে দাবি করা হয়, নোয়াপাড়া গ্রামের অবৈধ জায়গা দখলের সময় একজনকে হত্যা করা হয়েছে। পোস্টে আরও বলা হয়, পুরো ঘটনার নেতৃত্ব দেন বিএনপি নেতা আরিফ। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, বরং ভারতের একটি ঘটনা। একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৭ মে ভারতের উত্তরপ্রদেশে দুইপক্ষের মধ্যে এই মারামারির ঘটনা ঘটে।
ফেসবুকে ‘ন্যাচারাল লাইফস্টাইল’ নামের একটি পেজ থেকে গত ২০ মে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একাধিক নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা হাতে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং একে অপরকে পেটাচ্ছেন। ভিডিওর ভেতরে লেখা, “নোয়াপাড়া গ্রামের অবৈধ জায়গায় দগল করার সময় একজনকে হ’ত্যা বিম্পির নেতা আরিফের নেতৃত্ব” (বানান অপরিবর্তিত)। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “অবৈধ জায়গায় দগল 💔💔💔”।

এই প্রতিবেদন লেখার আগ সময় পর্যন্ত, ভিডিওটি প্রায় ২৪ হাজার বার দেখা হয়েছে এবং সাড়ে তিন শর অধিক শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৬৪০ জন ব্যবহারকারী।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে এবিপি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৮ই মে প্রকাশিত একটি শর্টস ভিডিও। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “গাছ কাটা কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩!” ভিডিওর দৃশ্যপটের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

বিস্তারিত যাচাইয়ে এবিপি নিউজের ভিডিও থেকে আবার কয়েকটি কিফ্রেম ও কিওয়ার্ড নিয়ে সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম দৈনিক ভাস্কর থেকে চলতি বছরের ১৮ মে প্রকাশিত একই ভিডিও সম্বলিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদে চলতি বছরের ১৭ মে, রবিবার দীর্ঘদিনের একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। বিরোধের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর লাঠিচার্জ করে, রড দিয়ে মারামারি শুরু করে। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জমি নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৪০ বছর ধরে বিরোধ চলছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে, খবর পেয়ে ফরিহা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানায়, তারা তদন্ত শুরু করেছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলে তারা। ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওর প্রথম ১৫ সেকেন্ডের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের বিএনপি নেতার নেতৃত্বে জায়গা দখলের এবং হত্যাকাণ্ডের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি মূলত ভারতের উত্তরপ্রদেশের। এবং মূল ঘটনাতেও মানুষ মারা যাওয়ার কোনো তথ্য কোনো প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়নি।
আগেও ভারতের একাধিক ঘটনা বাংলাদেশের ভুয়া দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে উঠে আসে।