
একাধিক সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে, যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মি ডিজাইন ব্যুরোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) মেজর জেনারেল সিএস মান ইরান এবং “অখণ্ড ভারত” প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, বক্তব্যটি সম্পাদনা করে বিকৃত করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে ১৩ মার্চ পোস্ট হওয়া একটি ভিডিওতে মেজর জেনারেল সিএস মানকে বলতে শোনা যায়, সন্ত্রাসী ইরানি শাসনের অবসান ঘটাতে ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ সহায়তা করছে ভারত। ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, “ইসরায়েল যদি ইরানের পতনে সফল হয়, তবে পাকিস্তানকে তিন দিক থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পূর্ব দিক থেকে ভারত এবং বাম দিক থেকে আফগান তালিবান ও ইসরায়েলপন্থি ইরান। এটিই অখণ্ড ভারত পুনরুদ্ধার করার ভারতীয় পথ।”

ওই ক্লিপে মেজর জেনারেল সিএস মানকে আরও বলতে শোনা যায়, “বাংলাদেশ ও নেপালের বিষয়টি পরে দেখা হবে।”
সামাজিক মাধ্যম এক্স ও ফেসবুকের একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬)।
ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করলে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) আপলোড করা একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওটি ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আপলোড করা হয়েছিল। এই ভিডিওর অডিওতে মেজর জেনারেল সিএস মানকে আকাশ প্রতিরক্ষা এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশল বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়। তিনি ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে ভারতের বর্তমান প্রস্তুতি বিষয়ে বলেন। এছাড়াও তিনি আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহে চীনা ড্রোনের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেন।
বক্তব্যের মিল না থাকলেও, এই ভিডিওর পেছনের দৃশ্য, জেনারেল সিএস মানের পোশাক ও ডান কোণে থাকা ভিডিওর লোগো সম্প্রতি ছড়ানো ভিডিওর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এছাড়াও ভিডিওর ১ মিনিট থেকে ১ মিনিট ৩২ সেকেন্ড অংশে দেখানো মেজর জেনারেল সিএস মানের হাতের নড়াচড়ার সঙ্গে, আলোচিত ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখানো হাতের নড়াচড়ার হুবহু মিল রয়েছে।
অধিকতর যাচাইয়ে ভিডিওটি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রকাশিত একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনও সামনে আসে (১, ২)। ভারত-ভিত্তিক তথ্যযাচাইকারী সংস্থা ফ্যাক্টলি- এর তথ্য অনুযায়ী- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় মেজর জেনারেল সি.এস. মানের বক্তব্য দাবিতে ছড়ানো এই ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে বিকৃত বা ডিপফেক।
নিশ্চয়তার জন্য ভিডিওটির অডিও ডিপফেক ভয়েস শনাক্তকারী টুল ‘হিয়া’-এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে ডিসমিসল্যাব। এতে জানানো হয় ভিডিওটির অডিও ডিপফেক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আরও একটি ডিপফেক শনাক্তকারী টুল ‘রিজেম্বল এআই’ দিয়ে পরীক্ষা করলে, সেটিও ভিডিওর অডিও ফেইক বলে জানায়।
অর্থাৎ, সিএস মানের ইরান ও অখণ্ড ভারত নিয়ে করা মন্তব্যের ভিডিওটি ভুয়া। ভিন্ন একটি বিষয়ে করা মন্তব্যকে বিকৃত করে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
একই দাবিতে পুরোনো ভিডিওটি আবারও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর পর নতুন কিছু তথ্য-প্রমাণ সামনে আসায় ১০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হয়েছে।