সামাজিক মাধ্যম এক্সে সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে ২০ বছর বয়সী এক হিন্দুধর্মাবলম্বী নারীকে জোর করে ৬৫ বছরের এক মুসলিম বৃদ্ধের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি একটি সাজানো কনটেন্টের অংশ। ‘ওয়েডিং স্টুডিও’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। ওই পেজে কনটেন্ট হিসেবে এমন একাধিক জোরপূর্বক বিয়ের ভিডিও নিয়মিত পোস্ট করা হয়।
‘নিউজ ম্যাট্রিক্স’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ অক্টোবর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক নারীকে এক বৃদ্ধের সঙ্গে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা দুজনেই বিয়ের সাজে। মেয়েটি কোনোভাবেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে যেতে রাজি হচ্ছে না। গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কান্না করছিল এবং পাশের নারীর কাছে সাহায্য চাইছিল। পোস্টের ভাষা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “ প্লিজ আমাকে বাঁচান! বাংলাদেশে এক ২০ বছরের হিন্দু মেয়েকে জোর করে ৬৫ বছরের এক মুসলিম ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে যখন জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন সে কেঁদে কেঁদে সবার কাছে তার জীবন বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছিল।”
একই ভিডিওটি গত ২ অক্টোবর ‘বাংলাদেশি হিন্দু কমিউনিটি’ নামের আরেকটি অ্যাকাউন্ট থেকেও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর বর্ণনায় লেখা, “বাংলাদেশে ২০ বছরের এক তরুণীকে জোরপূর্বক ৬৫ বছরের এক মুসলিম ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেওয়া হয়…🇧🇩🚨 যখন তারা মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন সে কেঁদে কেঁদে তার জীবন বাঁচানোর আকুতি জানায়…..।”
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ৯৭৯ বার রিপোস্ট করা হয়েছে। দেড় হাজারের অধিক ব্যবহারকারী পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘ওয়েডিং স্টুডিও’ নামের একটি ফেসবুক থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর পোস্ট করা একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। পোস্টে লেখা, “বাবা মা না থাকলে যে ভাবে হয় কনে বিদায় 🥲।” পোস্টের বর্ণনায় রিলসভিডিও হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করা হয়েছে। ৩০ সেকেন্ডের এই ভিডিওর সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি হুবহু মিলে যায়।

আরও বিস্তারিত যাচাইয়ে পেজটি পর্যালোচনা করে দেখে ডিসমিসল্যাব। পেজটি নিজেদের রিল নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেয় এবং জোরপূর্বক বিয়ের মতো গল্প নিয়ে নিয়মিত সাজানো কনটেন্ট প্রকাশ করে। পেজটি যাচাই করে ভিন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে একই ধরনের গল্পের একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে। পুরো একটি বিয়ের ভিডিওর কন্টেন্ট তৈরি করে ধারাবাহিক ভাবে ছোট ছোট ভিডিওর অংশ হিসেবে সেগুলো পোস্ট করা হয়।

অর্থাৎ, বাংলাদেশের ২০ বছর বয়সী কোনো হিন্দু নারীকে ৬৫ বছর বয়সী এক মুসলিম পুরুষের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেওয়ার ভিডিওটি আসল কোনো ঘটনার নয়। মূলত সাজানো একটি কনটেন্টকে জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা হিসেবে তুলে ধরে সেটি সাম্প্রদায়িক উস্কানিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইতঃপূর্বে ‘ওয়েডিং স্টুডিও’ নামের একই পেজ থেকে প্রকাশিত জোরপূর্বক বিয়ের নাটক থেকে ক্লিপ নিয়ে বাংলাদেশ-ভিত্তিক অপতথ্য বিশ্বজুড়ে ছড়ালে তা নিয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।

