নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দ্য অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সাদিক কায়েম

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে যাননি হাসনাত ও সাদিক

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি দাবি করা হচ্ছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন তারা। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন একটি স্বাধীন বিতর্ক প্রতিষ্ঠান, যা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ নয়। 

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১৩ জুন একটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে লন্ডনে পৌঁছেছেন সাদিক কায়েম! গত বছর এয়ারপোর্টে NCP ও বিএনপিকে হে’নস্তা করেছিল লীগ, কিন্তু শিবিরকে ফুলের টোকাও দিতে পারবে না। শিবির দেশে যতটা শক্তিশালী, ঠিক ততটাই বিদেশের মাটিতেও।” এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৫ হাজারের বেশি। 

ফেসবুকের একাধিক (,,,,) ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একই দাবিটি পোস্ট করা হয়। 

এদিকে গত ১৩ জুন ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একটি পোস্ট করে ক্যাপশনের এক অংশে লেখা হয়, “অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রনে আজ যুক্তরাজ্যে পৌছেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।” এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ পোস্টে প্রায় ৪ হাজার প্রতিক্রিয়া ছিল। ফেসবুকের আরেকটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও এ দাবি করা হয়। “অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ক্যাপ্টেন হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ভিপি সাদিক কায়েমের রাজকীয় এন্ট্রি” ক্যাপশনে ফেসবুকের একাধিক (,,,,) ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং পেজ থেকে দাবিটি পোস্ট করা হয়।

  • ফ্যাক্টচেক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দ্য অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সাদিক কায়েম
  • ফ্যাক্টচেক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দ্য অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সাদিক কায়েম

একাধিক (,) সংবাদমাধ্যমেও দাবিটি প্রকাশ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। জাগরণ নিউজ গত ১২ জুন তাদের ফেসবুক পেজে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে লেখে, “অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য রাখতে লন্ডনে পৌঁছেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।”

সত্যতা যাচাইয়ে দেখা যায়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সদস্যরা কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করতে পারবেন এবং কী ধরনের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন, সে ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ থাকায়, ১৮২২ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির কিছু ছাত্র স্বতন্ত্র ভাবে “ইউনাইটেড ডিবেটিং সোসাইটি” প্রতিষ্ঠা করেন। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন একটি স্বাধীন বিতর্ক প্রতিষ্ঠান, যা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ নয়। 

প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আয়োজিত “দ্য স্টুডেন্ট-লেড আপরাইজিং অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব পোস্ট-রেভ্যুলেশনারি বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সাদিক কায়েম।

ফ্যাক্টচেক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দ্য অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সাদিক কায়েম
একাধিক বাংলাদেশি তরুণকে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

মূলত গত বছরের ডিসেম্বরে সাদিক কায়েম, হাসনাত আব্দুল্লাহসহ একাধিক বাংলাদেশি তরুণকে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুন তারা প্যানেলে অংশ নেন। এ সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার নেতাকর্মীরা বাইরে বিক্ষোভ করলে, যুক্তরাজ্যের পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। 

অর্থাৎ, হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সাদিক কায়েম অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দ্য অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন। 

আরো কিছু লেখা