মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
This article is more than 1 month old
ফ্যাক্টচেক শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির জেরে মসজিদে হামলার দাবিটি ভুয়া

শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির জেরে মসজিদে হামলার দাবিটি ভুয়া

মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্টে দাবি করা হয়েছে, শরীয়তপুরের মডেল মসজিদে জুমার খুতবায় শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করায় ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা মসজিদের ইমাম ও এনসিপি নেতাদের ওপর চড়াও হয়েছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ছড়ানো ভিডিওটি গত ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার দৃশ্য। বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গত ৮ আগস্ট ফেসবুকের ‘News Desh’ নামের একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা হয়, “শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি করায় মসজিদের ইমাম এবং এনসিপি নেতাদের উপর জনতার আক্রস। শরীয়তপুরে মডেল মসজিদ এবং শেখ হাসিনাকে নিয়ে জুম্মাঘর খুৎবায় কটুক্তি করায় মসজিদের মুসাল্লিগণ তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটায়!” ৩০ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে একটি মসজিদের সামনে পাঞ্জাবি পরিহিত একজনকে মারধর করতে দেখা যায়।

ফ্যাক্টচেক শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির জেরে মসজিদে হামলার দাবিটি ভুয়া
শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করায় মসজিদের ইমাম ও এনসিপি নেতাদের ওপর জনতার হামলা – এমন দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক ভিডিওর স্ক্রিনশট।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটি ১ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে। পোস্টে প্রতিক্রিয়া পড়েছে ৯ হাজার ৭০০-এর বেশি এবং শেয়ার হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ বারের বেশি। একই দাবিতে ফেসবুকের একাধিক পেজ (১, ২, ৩) ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩) থেকেও এই পোস্ট ছড়ানো হয়।

এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ডিসমিসল্যাব ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে। এতে গত ৫ আগস্ট সংবাদমাধ্যম রাইজিং বিডির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওর সঙ্গে ছড়ানো ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়। “শরীয়তপুরে জামায়াতের অনুষ্ঠানে হা’ম’লা, মার খেলেন সাংবাদিকও” শিরোনামের ১ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্য মিলে যায়।

রাইজিং বিডির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওর স্ক্রিনশট।

এ ছাড়া একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও (১, ২) এ ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যেখানে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

গত ৫ আগস্ট প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, “শরীয়তপুরের জাজিরায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জামায়াতের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়।” প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলা সদরের মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে জামায়াতে ইসলামী গণমিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল, একই সময়ে পাশে পৃথক কর্মসূচি পালন করছিল বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন, আর দুই পক্ষের সংঘর্ষে হামলার ঘটনা ঘটে।

মূল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।

অর্থাৎ, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির জেরে মসজিদে মুসল্লিদের ক্ষোভের ঘটনা নয়, বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে জামায়াতের কর্মসূচিতে হামলার দৃশ্য।

আরো কিছু লেখা