সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, বরিশালে এক ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মিছিলে যাওয়ায় বিএনপি তার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে আসামের গোসাইগাঁওয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষের ঘটনার দৃশ্য এটি।
ফেসবুকের ‘শিবলী সাদিক এমপি’ নামের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ২১ সেকেন্ডের ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে নির্মাণাধীন একটি ঘরের দেয়াল ভাঙতে দেখা যায়। একাধিক নারীর চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। ভিডিওর বর্ণনায় লেখা, “ছেলে আওয়ামী লীগের মিছিলে গেছিলো বিএনপি বাড়ি ঘর ভাংচুর করলো বরিশাল।”

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ২৫ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং প্রায় নয়শবার শেয়ার করা হয়েছে। এক হাজারের বেশি ব্যবহারকারী ভিডিওতে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ফেসবুকের আরেকটি প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
অনুসন্ধানে একাধিক কিফ্রেম নিয়ে সার্চ করলে ডিসমিসল্যাব হেডলাইন এইট (Headline 8) নামের আসাম-ভিত্তিক একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায়। গত ২৯ জুলাইয়ের সে পোস্টের লেখা বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “কোকড়াঝাড়ের গোসাইগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধের ভয়াবহ রূপ। ভাওরাগুড়ির উচাতারি গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারী ও বৃদ্ধসহ কয়েকজন আহত। একখণ্ড জমিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নুরুল খান এবং গনি শেখের পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।” ৩ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ভিডিওর দৃশ্যপটের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

এছাড়া নিজেদের সংবাদমাধ্যম হিসেবে পরিচয় দেওয়া আসাম-ভিত্তিক ফেসবুক পেজ ‘দ্য বডোল্যান্ড ট্রিবিউন’ (The Bodoland Tribune) একই দিন ঘটনাটির বিষয়ে আরেকটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানেও বলা হয়, আসামের গোসাইগাঁও এলাকার উচাতারি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।
প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে এই ঘটনায় প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত স্থানীয় নুরুল খান ও গনি শেখের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই ঘটনার সূত্রপাত। এমনকি গণি শেখ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ’ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন নুরুল খানের একটি সরকারি বাড়ি ভেঙে ফেলার অভিযোগও ওঠে। ঘটনার পর পুলিশ গণি শেখসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গোসাইগাঁও থানার একটি এফআইআর দায়ের করে।

অর্থাৎ বরিশালে আওয়ামী লীগ সমর্থকের বাড়ি ভাঙচুরের দাবিটি ভুয়া। প্রচারিত ভিডিওটি ভারতের আসাম রাজ্যের।

