ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি জি কে গউছের বাসা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে এনসিপির ও জামায়াত-শিবিরের লোকজন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, মূল ভিডিওটি পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীরের একটি ঘটনার।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত বুধবার একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “কিছুক্ষণ আগে থেকে হবিগঞ্জের অবস্থা ভয়াবহ। হবিগঞ্জ ৩ আসনের এমপি জি কে গউছের বাসা ভাঙচুর করার লক্ষ্যে হামলা চালাচ্ছেন এনসিপির ও জামাত শিবিরের ছেলেরা।” ১৯ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি সড়কে বেশকিছু মোটরসাইকেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে এবং একটি পুলিশের গাড়ির আশেপাশে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি এক লক্ষ ৬১ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং সাতশর বেশি শেয়ার হয়েছে। এ ছাড়া একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা গেছে ফেসবুকের একাধিক প্রোফাইল (১, ২, ৩, ৪) থেকে। একই দাবিতে ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামের একটি প্রোফাইল থেকেও পোস্ট করা হয়।

ভিডিওর ওপরে ডান কোণায় জাগরণ নিউজের লোগো দেখা যায়। জাগরণ নিউজের ফেসবুক পেজে গত বুধবার ভিডিওটি পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশন ছিল, “আজাদ কাশ্মিরের মিরপুরে পুলিশের গু*লি*তে নি*হ*ত ১২ পাকিস্তানি।”
ভিডিওটির একটি ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ভারত-ভিত্তিক গণমাধ্যম আজতাক এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২৮ জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনামের অনুবাদ দাঁড়ায়, “গুলি চলছে, মানুষ দিগ্বিদিক পালাচ্ছে, রাজপথে চরম আতঙ্ক… পিওকে-তে পাকিস্তানি অত্যাচারের প্রমাণ দেখুন – ভিডিও।” এ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ভিডিওর কিছু অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, “পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীরের মিরপুরে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে, এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে আরও ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা বা হতাহতের ঘটনা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে রাস্তায় ডজন ডজন মোটরসাইকেল উল্টে থাকতে, যানবাহন এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে এবং মানুষকে দিগ্বিদিক পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।”

অর্থাৎ, পাকিস্তানের কাশ্মীরে গুলিবর্ষণের ভিডিও প্রচারিত হচ্ছে হবিগঞ্জে এনসিপির হামলার দাবিতে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জ শহরের টাউনহলের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমাবেশের আয়োজন করে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা করে।
এর আগেও হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে জড়িয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।

