
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে সম্প্রতি এক ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে— বাংলাদেশের নদী-নালা বা জলাশয়ে আগে যেখানে মাছ পাওয়া যেত, সেখানে জুলাই আন্দোলনের পর ধর্ষণের শিকার নারীর লাশ পাওয়ার মতো ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি একটি অভিনয়ের দৃশ্য, বাস্তব ঘটনার নয়।
এক্সে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের এক ভিডিওতে এক উপস্থাপককে বুম হাতে বলতে শোনা যায়, কলেজে পড়ুয়া এক মেয়েকে ধর্ষণ করে বিলে ফেলে রাখা হয়েছে। দুই থেকে তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর মৃত অবস্থায় পানির মধ্যে পাওয়া যায় বলে জানানো হয় ভিডিওতে। ভিডিওতে দেখা যায়, পানি থেকে এক মেয়েকে তুলে এনেছে কয়েকজন। পাশেই বসে আহাজারি করছেন এক বৃদ্ধা।
ভিডিওটি শেয়ার করে বিডিফরনৌকা নামের অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে— বাংলার নদী-নালা, পুকুর, খাল-বিলে আগে পাওয়া যেত মাছ। জুলাই আন্দোলনের পর থেকে পাওয়া যায় ধর্ষিতা নারীর লাশ। আরও বলা হয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ধারাবাহিকতায় “নতুন বাংলাদেশ”-এর প্রবক্তা তারেক রহমানের হাতে হয়তো আগামীতে শুধু দুর্নীতিতে নয়, ধর্ষণ-বলাৎকার-চাঁদাবাজিতেও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে।

এ পর্যন্ত পোস্টটি প্রায় সাড়ে চার হাজার বারের মতো দেখা হয়েছে। পোস্টে একজন মন্তব্য করেছেন, “বাংলাদেশে নারী হত্যা বন্ধ কর । আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন গুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।” মন্তব্যে কেউ বলছেন এটি আওয়ামী লীগের কাজ, কেউ আবার বলছেন ভিডিওটি মিথ্যা।
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স সার্চ করলে ডিসমিসল্যাবের সামনে রকি কিচ্ছা মেলা নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল আসে। একই ভিডিওর খণ্ডিত অংশ নিয়ে একাধিক রিলস পাওয়া যায় এই চ্যানেলে। ভিডিও-এর দৃশ্য, ঘটনা, ব্যক্তি, তাদের পোশাক সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিও-এর সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।

রকি কিচ্ছা মেলা নামের ইউটিউব চ্যানেলটি বিশ্লেষণ করলে ডিসমিসল্যাব দেখতে পায়, চ্যানেলটি থেকে প্রায় নিয়মিত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করা হয়। নির্দিষ্ট কয়েকজনকে সব ভিডিওতেই দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে। আর সবখানেই দেখা যায় একজন বুম হাতে সেই ঘটনা বর্ণনা করছেন। ১৫ মে-এর এক ভিডিওতে যে নারীকে ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত দাবি করা হয়েছে, সেই একই নারীকে দুইদিন পর আরেক ভিডিওতে দেখা যায়। ১৭ মে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, ফসল তলিয়ে যাওয়ায় পূর্বের ভিডিওতে বিয়ের টাকার জন্য আহাজারি করছেন সেই মা, পাশে বসে কাঁদছে মৃত দাবি করা সেই মেয়ে। দুজনের পোশাক দুই ভিডিওতে হুবহু এক।

এই ইউটিউব চ্যানেলটি সম্পর্কে তারা লিখেছে, “নিত্য নতুন বিনোদনমূলক ভিডিও পেতে জুঁই কিচ্ছা মেলা ইউটিউব চ্যানেলটি অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করবেন।” তাদের কন্টেন্টের ধরনের মধ্যে লিখেছে— বাংলা নাটক, শর্ট ফিল্ম, মোটিভেশন, গ্রামীণ কিচ্ছা। একটি ইউটিউব চ্যানেলে বিনোদনমূলক কনটেন্ট হিসেবে এসব সাজানো ভিডিও প্রচারিত হয়।

অর্থাৎ, ধর্ষণের শিকার নারীর লাশ দাবিতে প্রচার করা ভিডিওটি বিনোদনমূলক চ্যানেলের জন্য তৈরি অভিনয়ের দৃশ্য, কোনো বাস্তব ঘটনা নয়।