তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check: Viral video falsely claims a Bangladeshi Muslim thief was caught entering a Hindu home in Assam’s Kokrajhar; the incident actually took place in Cumilla, Bangladesh.

গ্রিলে আটকে পড়েছে কুমিল্লায়, ছড়াচ্ছে আসামে হিন্দুর ঘরে মুসলিম চোরের দাবিতে

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

এক যুবকের বারান্দার লোহার গ্রিলে আটকে পড়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে। দাবি করা হচ্ছে— আসামের কোকরাঝাড়ে লোহার গ্রিল দিয়ে এক হিন্দুর ঘরে এক বাংলাদেশি মুসলিম চোরের ঢোকার দৃশ্য এটি। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, মূল ঘটনা আসামের নয়, বাংলাদেশের কুমিল্লার।

সম্প্রতি এক্সে ছড়িয়ে পড়া ১৭ সেকেন্ডের এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক ভবনের বারান্দার লোহার গ্রিলে আটকে পড়া এক ব্যক্তি বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে এবং আশেপাশের লোকজনের কাছে কাকুতি-মিনতি করছে। ভিডিও-এর উপরে ডান পাশে “কোকরাঝাড় খবর” নামের একটি লোগো দেখা যায়।

Fact-check: Viral video falsely claims a Bangladeshi Muslim thief was caught entering a Hindu home in Assam’s Kokrajhar; the incident actually took place in Cumilla, Bangladesh.
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো এক্স পোস্টের স্ক্রিনশট।

ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখা হয়েছে, “হাহা! আসামের কোকরাঝাড়ে এক বাংলাদেশি মিয়া মুসলিম চোর লোহার গ্রিল দিয়ে এক হিন্দুর ঘরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। সে প্রথমে তার শরীরের নিচের অংশ ঢুকিয়ে দেয়, কিন্তু কোমর পর্যন্ত ঢোকার পর সে আটকে যায়। সকাল পর্যন্ত সে বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। সকালে যখন লোকজন জড়ো হলো, তখন সে কাঁদতে কাঁদতে বলছিল, “স্যার, আমার একটা বাচ্চা আছে, দয়া করে আমাকে বাঁচান।” 

পোস্টটি এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি বার শেয়ার হয়েছে। একজন শেয়ার করে লিখেছেন, “এই ভিনদেশিরা তাদের স্বভাবজাত কোরআনিক তাকিয়া প্রকৃতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, এদের উৎপত্তি বাংলাদেশের তাকিয়া তেলাপোকা সম্প্রদায় (টিসিসি) থেকে। এই তেলাপোকাদের থেকে সাবধান থাকুন! ”আরেকজন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও আসাম পুলিশের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টকে ম্যানশন করে শেয়ার করেছেন, “হাঁটুর উপর থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত পরখ করেন এবং যদি তার কোনো ঘর থাকে, তবে সেটিতে বুলডোজার চালান : পুরো পরিবারকে একসাথে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান।” 

প্রসঙ্গত, অহেতুক ঝুঁকি এড়াতে মুসলিমদের নিজের ধর্ম পরিচয় লুকানোর প্রক্রিয়াকে তাকিয়া বলা হয়।

ভিডিওটির সূত্র জানতে “কোকরাঝাড় খবর” নামের ফেসবুক পেজটি খুঁজে বের করে ডিসমিসল্যাব। ১২ মে এই পেজে ১৭ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনের অসমীয়া বাক্যটি বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়: “চুরি করতে এসে জনগণের রোষানলে পড়ল চোর।” তবে ঘটনা কোন জায়গার সেই প্রসঙ্গে কিছু বলা হয়নি এই পোস্টে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন সামনে আসে।

Fact-check: Viral video falsely claims a Bangladeshi Muslim thief was caught entering a Hindu home in Assam’s Kokrajhar; the incident actually took place in Cumilla, Bangladesh.
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো এক্স পোস্ট (বামে) এবং মূল ভিডিওর ফেসবুক পোস্টের (ডানে) স্ক্রিনশট।

একাধিক গণমাধ্যম (, ) সূত্রে জানা যায়, ভিডিও-এর এই দৃশ্যটি বাংলাদেশের কুমিল্লায় এক চোরের আটকে পড়ার ঘটনার। গত ১১ মে কুমিল্লা নগরীর ইসলামপুর এলাকার একটি বাসায় চুরি করে পালানোর সময় বারান্দার লোহার গ্রিলে আটকে ধরা পড়ে মো. মারজান হোসেন জিহাদ (২২) নামের এক যুবক। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ মিনিটের প্রচেষ্টার পর সেখানে উপস্থিত জনতা তাকে টেনে বের করে আনে। যে ভবনটিতে এই ঘটনা ঘটেছে, তার মালিক ইসলামপুর এলাকার মোহাম্মদ আলী। 

Fact-check: Viral video falsely claims a Bangladeshi Muslim thief was caught entering a Hindu home in Assam’s Kokrajhar; the incident actually took place in Cumilla, Bangladesh.
আসল ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

অর্থাৎ, আসামের কোকরাঝাড়ে এক বাংলাদেশি মুসলিম চোর লোহার গ্রিল দিয়ে এক হিন্দুর ঘরে ঢোকার চেষ্টা করার দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি বাংলাদেশের এবং সেই বাড়ির মালিক মুসলিম ধর্মাবলম্বী। 

আরো কিছু লেখা