
ভারতে মুসলিমদের ওপর আক্রমণের দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি আসলে ২০২৫ সালে রাজস্থানের হনুমানগড়ে পানির পাইপলাইন নিয়ে ঘটা একটি সংঘাতের।
সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়িতে ইটের টুকরা ছুঁড়ে ও লাঠি দিয়ে হামলা করছে কিছু লোক। ভিডিও-র উপরে এবং পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “মুসলমানদের বাড়ি ভাঙচুর।”
ভিডিওর নিচে এক অংশে একজনকে বলতে শোনা যায়, “আমি জানি না এই ভিডিওটা কার সামনে গেছে, ভিডিওটা যার সামনে গেছে, ভিডিওটা দ্রুত পরিমাণে শেয়ার করবেন। এইটা কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, এইটা এখনো বাংলাদেশের দৃশ্য নয়, এইটা হচ্ছে ইন্ডিয়াতে আমাদের মুসলিম ভাইদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে কিছু হিন্দুত্ববাদীরা। আপনারা এই ভিডিওটা প্রচুর পরিমাণে শেয়ার করে দেন। প্রতিবাদ না করলে কিন্তু এটা কখনো বন্ধ হবে না। পুরা বিশ্ব দেখুক যে ইন্ডিয়াতে আমাদের মুসলিম ভাইদের ওপর কী পরিমাণ আক্রমণ হচ্ছে।”

এ পর্যন্ত ভিডিওটি ৪৪ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে, শেয়ার হয়েছে তিন হাজারের বেশিবার। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “সালনি কয় সুইচরে তোর পাছায় ছিদ্র আরে দিপু, হত্যা সাধুহত্যা হল,আগুন দিয়ে পোরে মারা হল ভুলে গেলি আর এখান শুধু গেটে আক্রমণ হচ্ছে তার জন্য প্রতিবাদ। এই হত্যাগুলোর কারণে বিশ্ব সাপোর্ট থেকে বঞ্চিত হল বাংলাদেশ। এবার দিনে দিনে বুঝবি।” আরেকজন লিখেছেন, “হে পাকিস্তান, ইরানী ভাইয়েরা আর চুপ থেকো না।”
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কিছু দৃশ্য নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে এ ঘটনার একাধিক ভিডিও প্রতিবেদন (১, ২) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওর সঙ্গে গত বছরের ১৭ জুন প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের দৃশ্য পুরোপুরি মিলে যায়। এছাড়াও, নিউজ এইটিন হিন্দি এ ঘটনায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে গত ১৬ জুন। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিডিওটির মূল ঘটনা ভারতের রাজস্থানে পানির পাইপলাইন নিয়ে ঘটা বিবাদকে কেন্দ্র করে।
ভারতভিত্তিক একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, হনুমানগড় জেলার করনিসর গ্রামে সেচের পানির পাইপলাইন বসানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। ঘটনা পাথর ও গুলি ছোঁড়ার পর্যায়ে পৌঁছালে চারজন আহত হন এবং একটি বাড়ির দেয়াল ধসে পড়ে। পলিটিক্যাল পঞ্চায়াত নামে রাজস্থানভিত্তিক একটি সংবাদ মাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে এ বিষয়ক একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ভিডিওর ২ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে হনুমানগড়ের ডিএসপি মীনাক্ষীকে বলতে শোনা যায়, যার ঘরের সামনে হামলার এ ঘটনা ঘটে তার নাম প্রেম কুমার এবং তিনি এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগেও একই ঘটনার ভিডিও বিহারের নির্বাচনের সময় ছড়িয়েছিল বিহারে জাত-কেন্দ্রিক সংঘাত দাবিতে। এ সময় ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজচেকার, আজতাক বাংলাসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম।
অর্থাৎ, ভারতে মুসলিমদের ওপর আক্রমণের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এগারো মাস আগে রাজস্থানে পানির পাইপলাইন নিয়ে বিবাদের জেরে ঘটা সংঘাতের।