সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে মানবজমিনের প্রথম পাতার লেআউট ব্যবহার করে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়। একই পেজ থেকে আমার দেশ পত্রিকার লেআউট ব্যবহার করে দাবি করা হয়, জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ইসরায়েলের গোয়েন্দা কর্মকর্তার গোপন বৈঠক হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ছবি দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। দুটি পত্রিকার কোনোটিই এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে “Sayma Mahi” নামের একটি পেজ থেকে মানবজমিনের প্রথম পাতার লেআউটে বানানো ছবিটি পোস্ট করা হয়। আসিফ মাহমুদ, তার স্ত্রী ও সালমান মুক্তাদিরের ছবি দিয়ে প্রধান শিরোনামে লেখা ছিল, “আসিফ মাহমুদের স্ত্রীর বিষয়ে, পরকীয়াই কাল হলো সালমান মুক্তাদিরের। সাবেক পিএসএর দারি, ভাঙচুরে জড়িত ছিল আসিফ মাহমুদের সন্ত্রাসী বাহিনী” (বানান অপরিবর্তিত)। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ৭১৭টি প্রতিক্রিয়া এসেছে এবং ১০৩টি মন্তব্য করা হয়েছে; এটি শেয়ার হয়েছে ১৫৩ বার।

একই পেজ থেকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ‘আমার দেশ’-এর প্রথম পাতার লেআউটে বানানো ছবিটি পোস্ট করা হয়। এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমান ও ইসরায়েলের নাগরিক মেন্দি এন সাফাদির ছবি ব্যবহার করে প্রধান শিরোনামে লেখা ছিল, “ইসরাইলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিন্দি সাফাদির সাথে জামায়েত আমিরের গোপন বৈঠক”। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ৮৬৫টি প্রতিক্রিয়া এসেছে এবং ১৬৩টি মন্তব্য করা হয়েছে; এটি দেড় হাজারের বেশি বার শেয়ার করা হয়েছে।
সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ছবি দুটি ওপেনএআইয়ের ভেরিফাই টুলে পরীক্ষা করা হয়। টুলটি জানায়, ছবি দুটি ওপেনএআই দিয়ে তৈরি।

এরপর মানবজমিন ও আমার দেশ পত্রিকার আর্কাইভে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ই-পেপারের প্রথম পাতা ঘেটে এমন কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ভুয়া ছবি দুটির সঙ্গে দুই পত্রিকার প্রথম পাতার তুলনা করে একাধিক অমিল লক্ষ্য করা যায়। মানবজমিনের প্রথম পাতায় পত্রিকার নাম মাস্টহেডের বাঁ পাশে খাড়া বা উলম্বভাবে বসানো থাকে। এর সঙ্গে ট্যাগলাইনে লেখা থাকে “কারও তাবেদারি করে না”। কিন্তু ভুয়া ছবিতে মাস্টহেডে পত্রিকার নামটি আনুভূমিকভাবে বসানো। ট্যাগলাইনে লেখা “সত্যের পক্ষে, মানুষের পাশে”। এছাড়া পত্রিকার লোগোও ভিন্ন। মানবজমিনের ওয়েবসাইটের ঠিকানা www.mzamin.com। কিন্তু ভুয়া ছবিতে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে www.manabzamin.com।
আমার দেশের প্রথম পাতায় ট্যাগলাইন “স্বাধীনতার কথা বলে”। ভুয়া ছবিতে লেখা “স্বাধীনতা ও সত্যের পক্ষে”। পত্রিকাটির ওয়েবসাইটের ঠিকানা dailyamardesh.com। কিন্তু ভুয়া ছবিতে দেওয়া হয়েছে www.dainikamardesh.com। মূল্য, নিবন্ধন নম্বর ও ছাপা সংস্করণের তথ্যও ভুয়া ছবিতে আলাদা।
আমার দেশের ভুয়া ছবিতে পত্রিকার তারিখ লেখা রয়েছে “৯ আশ্বিন ১৪৩২”, যা খ্রিস্টীয় বর্ষের ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। অথচ ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরে। অর্থাৎ ছবিতে প্রায় এক বছর আগের তারিখ ব্যবহার করা হয়েছে।
অর্থাৎ মানবজমিন ও আমার দেশ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। পত্রিকা দুটির প্রথম পাতার ছবি এআই দিয়ে বানানো।
এর আগেও “Sayma Mahi” পেজ থেকে ভুয়া তথ্য ছড়ানো নিয়ে একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

