আহমেদ ইয়াসীর আবরার

সিনিয়র রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fahmida haque false claim factcheck feature

এমপি ফাহমিদা হক দাবি করে ছড়াচ্ছে অন্য নারীর ভিডিও

আহমেদ ইয়াসীর আবরার

সিনিয়র রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে বলা হচ্ছে, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হককে মদ্যপান করতে দেখা যাচ্ছে। ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ভিডিওর নারী ফাহমিদা হক নন।

গত ২৮ জুলাই ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “সংসদ সদস্য ফাহমিদা হকের মদ্যপানের দৃশ্য।” পোস্টটি  এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচশ বার শেয়ার করা হয়েছে। কমেন্ট করা হয়েছে একশ বারেরও বেশি। প্রতিক্রিয়া এসেছে দুই হাজারেরও বেশি।

সংসদ সদস্য ফাহমিদা হকের মদ্যপানের দৃশ্য বলে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একজন সাদা শাড়ি পরা নারী তার পাশে বসা ব্যক্তির গ্লাসে পানীয় ঢেলে দিচ্ছেন এবং নিজের গ্লাসের পানীয় পান করছেন। ভিডিওটি সংসদ সদস্য ফাহমিদা হকের দাবি করে আরও একাধিক পোস্ট দেখা গেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে।

রিভার্স ইমেজ সার্চে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে টিকটকে ২০২৫ সালের ১৭ আগস্টে পোস্ট হওয়া একটি ভিডিও। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “নতুন লিং”। ১৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর সঙ্গে ফাহমিদা হকের নামে ছড়ানো ভিডিওর হুবহু মিল লক্ষ্য করা যায়। এই ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে আরও কিছু রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে ওয়েবসাইটের একটি পেজ। মূলত বিভিন্ন পর্ণগ্রাফিক ভিডিও এবং মানুষের ফাঁস হওয়া ব্যক্তিগত ভিডিও এই ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়।

ওই ওয়েবপেজের একটি ভিডিও এবং ছবির সঙ্গে ফাহমিদা হকের নামে ছড়ানো ভিডিওর হুবহু মিল লক্ষ্য করা যায়। ভিডিও ও ছবিগুলো আপলোড করার তারিখ দেওয়া ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই। ভিডিওতে থাকা অন্যান্য ছবির সূত্র ধরে ডিসমিসল্যাব খুঁজে পায় নিজেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর দাবি করা এক ব্যক্তিকে। তার ফেসবুকে তিনি তার সাবেক সঙ্গী দাবি করে এক নারীর একাধিক ভিডিও আপলোড করেন। কোনো কোনো ভিডিওতে ওই নারীর সঙ্গে ব্যক্তিটিও ছিলেন। ভিডিওগুলোতে থাকা নারীর সঙ্গে ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ভিডিওর নারীর মুখাবয়বের মিল লক্ষ্য করা যায়। আরও নিশ্চিত হতে ফেইস কম্পারিজন টুলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা নারীর মুখ এবং ব্যক্তিটির ফেসবুকে পাওয়া নারীর মুখের ছবি আপলোড করলে বিশ্লেষণে দেখা যায়, মিলের অনুপাত ৮২ শতাংশ। উল্লেখ্য, এই মডেল অনুযায়ী দুটি মুখের মধ্যে মিল ৮০ শতাংশের বেশি হলে বলা যাবে তারা একই ব্যক্তি।

ফেসবুকে দেখা নারীর সঙ্গে ছড়ানো মিথ্যা দাবিতে ছড়ানো ভিডিওর নারীর মুখের মিলের অনুপাত ৮২ শতাংশ (বাঁয়ে); ফাহমিদা হকের সঙ্গে ভিডিওর নারীর মুখের মিলের অনুপাত ৪১ শতাংশ (ডানে)।

এছাড়া, ফাহমিদা হকের সঙ্গে ভিডিওতে থাকা নারীর মুখাবয়বের মিল খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় মিলের অনুপাত ৪১ শতাংশ, অর্থাৎ তারা একই ব্যক্তি নন।

[ডিসমিসল্যাব সাধারণত ফ্যাক্টচেক করার সময় প্রমাণ হিসেবে প্রতিবেদনে ভুয়া বা মিথ্যা দাবিতে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট এবং মূল পোস্টের লিংক দেয়। তবে ছবি বা ভিডিওতে কাউকে স্পষ্ট বোঝা যাওয়ায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষূণ্ন হতে পারে এমন সম্ভাবনা থাকলে লিংকগুলো স্টোরিতে না দিয়ে শুধু প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।]

আরো কিছু লেখা