তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ভারতে আজান দেওয়া নয়, অন্য কারণে আটক হয়েছিলেন এই বৃদ্ধ

ভারতে আজান দেওয়ায় নয়, অন্য কারণে আটক হয়েছিলেন এই বৃদ্ধ

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

ভারতের মসজিদে আজান দেওয়ার কারণে এক বৃদ্ধকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে দাবিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। ভিডিওর ঘটনাটি ২০২৪ সালের ২৮ মে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরের। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোর জেলা আদালতে মামলার রায় তার পক্ষে না যাওয়ায় ভিডিওতে দৃশ্যমান ব্যক্তি বিচারকের দিকে জুতার মালা ছুড়ে মারেন। এ ঘটনার পর আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা ওই ব্যক্তিকে ধরে মারধর করেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন।

নিউ সাইফুল নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “ভারতের মসজিদে আজান দেওয়ার কারণে তার কী শাস্তি ভোগ করতে হলো ভাই, ভিডিওটা আপনারা নিজ চোখে লক্ষ্য করুন। আপনি যদি মুসলিম হয়ে থাকেন, ভিডিওটা এত পরিমাণে শেয়ার করবেন, বিশ্বের প্রতিটি মুসলিমকে দেখার সুযোগ করে দিবেন।” পোস্টে লেখা ছিল, “মসজিদে আজান দেওয়ার কারণে” (বানান অপরিবর্তিত)।

ভারতে আজান দেওয়ায় নয়, অন্য কারণে আটক হয়েছিলেন এই বৃদ্ধ
ভুয়া দাবিতে প্রচারিত পোস্টের স্ক্রিনশট

এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ভিডিওটি সাড়ে ৩ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ২১ হাজার বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “কলকাতা পর্যন্ত আমরা দখল নিয়ে নেব কলকাতা পর্যন্ত বাংলাদেশের ম্যাপে আছে ব্রিটিশ ম্যাপ। ”

কিফ্রেম সার্চে ডিসমিসল্যাব ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ মে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২, ৩) খুঁজে পায়। ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ছবির সঙ্গে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্য হুবহু মিলে যায়।

ভারতে আজান দেওয়ায় নয়, অন্য কারণে আটক হয়েছিলেন এই বৃদ্ধ
মূল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

এ বিষয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইন্দোরের আজাদ নগর এলাকায় সরকারি জমি দখল করে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করে আদালতে মামলা করেছিলেন ৭০ বছর বয়সী মোহাম্মদ সেলিম। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে দখলের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় সেলিমের আবেদনটি খারিজ করে দেন বিচারক। 

সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি‌পি) বিনোদ কুমার দীক্ষিত এনডিটিভির সাংবাদিকদের জানান, “আদালতের এই সিদ্ধান্ত শোনামাত্র সেলিম তার পোশাকের মধ্যে লুকিয়ে রাখা জুতার মালাটি বের করে বিচারকের দিকে ছুড়ে দেন।” মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে মোহাম্মদ রইস অভিযোগ করেন, আইনজীবীরা তার বাবার কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদস্যরা আইনজীবীদের হাত থেকে তাকে ও তার বাবাকে উদ্ধার করে এমজি রোড থানায় নিয়ে যান। 

অর্থাৎ, মসজিদে আজান দেওয়ার কারণে বৃদ্ধকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। 

আরো কিছু লেখা