
ফেসবুকে সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের একটি কমিটির ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, এ কমিটিতে যৌন বিষয়ক সম্পাদক পদে শাহ কামাল নামে একজনকে মনোনীত করা হয়েছে। ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছবিটি সম্পাদিত। কমিটির মূল তালিকায় এ ধরনের কোনো পদ নাই।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৪ মে একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “যৌন বিষয়ক সম্পাদকও আছে দেখছি 😆😆,,,আল্লাহ।” ছবিতে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের অফিশিয়াল প্যাডে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটির শেষের দিকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আশরাফ ইমরানের নাম লেখা আছে, এর নিচেই “যৌন সম্পাদক” হিসেবে শাহ কামাল নামে একটি নাম দেওয়া আছে।

বিজ্ঞপ্তির নিচে কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের স্বাক্ষর দেখা যায়। স্বাক্ষরের নিচে থাকা তারিখ অনুযায়ী, এ কমিটি ২ মে অনুমোদন করা হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ২ হাজার ৫০০ এর বেশি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা।
আরেকটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একই ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, “এমন টাইপিং মিস্টেকের প্রভাব শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির উপরে গিয়ে আঘাত হানে না পূরো সংগঠনের ভাবমূর্তির উপরে আঘাত হানে। একটা শব্দ ভুল হলে পুরো বাক্যের মানে বদলে যায়, আর দেখতেও লাগে অদ্ভুত।” এই পোস্টে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া ছিল। ৮৯ বার শেয়ার করা হয়েছে এই পোস্ট।
ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) ব্যক্তিগত প্রোফাইল, পেজ এবং গ্রুপ থেকে একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়।
দাবির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখলে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিবের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে গত ২ মে এর একটি পোস্ট সামনে আসে। এ পোস্টের ১০ নম্বর ছবিটিতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের কমিটির বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যায়। যাচাইয়ে দেখা যায়, কমিটিতে মোট ৬ জনের নাম পদসহ ঘোষণা করা হয়েছে।

অনুমোদিত কমিটিতে দেখা যায়, সভাপতি হিসেবে ফাহিমুর রহমান এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে মোহাম্মদ হোসেন মাদু দায়িত্ব পেয়েছেন। কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মোহাম্মদ সাঈদ আনোয়ারকে। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মোহাম্মদ জাহেদ নুর জিতু। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সৈয়দ মুহাম্মাদ সালমান বাপ্পি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন আশরাফ ইমরান। আশরাফ ইমরানের পরে অন্য কোনো সম্পাদক বা কোনো পদের নাম দেওয়া হয়নি।
অধিকতর যাচাইয়ে দেখা যায়, আংশিক এই কমিটির ঘোষণা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একাধিক (১, ২, ৩, ৪, ৫) গণমাধ্যম। ৪ মে প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “দীর্ঘ দুই বছর পর কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে গত শনিবার।”

প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়, “গত শনিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমানকে সভাপতি, মো. সাঈদ আনোয়ারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। আংশিক কমিটিতে মো. হোসেন মাদুকে সিনিয়র সহসভাপতি, জাহেদ নুর জিতুকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ মুহাম্মাদ সালমান বাপ্পিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আশরাফ ইমরানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। চিঠিতে আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।”
অর্থাৎ, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে “যৌন সম্পাদক” পদের ছবিটি সম্পাদিত।