সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
এক ব্যক্তিকে জুতাপেটার ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় শিক্ষার্থীদের জুতা পিটুনির শিকার হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম আবিদ। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ছাত্রদল নেতা আবিদ নয়।

ইভটিজিংয়ের দায়ে ব্যক্তিকে জুতাপেটার ভিডিও ছড়াচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক ব্যক্তিকে জুতাপেটার ভিডিও সম্প্রতি ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে ছড়াতে দেখা গেছে। কোথাও বলা হচ্ছে, কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় শিক্ষার্থীদের জুতাপেটার শিকার হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম আবিদ। আবার অন্য দাবিতে বলা হচ্ছে, ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বাংলাদেশি জিহাদি হিন্দু ছাত্রীদের প্রেমের ফাঁদে ফাঁসানোর জন্য প্রলোভন দেওয়ায় তাকে জুতাপেটা করেছে ছাত্রীরা। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছড়িয়ে পড়া দুটি দাবিই ভুয়া।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অশালীন ইঙ্গিত এবং ইভটিজিংয়ের দায়ে এক বহিরাগত যুবককে জুতাপেটা করে পুলিশে দেওয়ার ঘটনা এটি। 

গত ২৭ এপ্রিল ফেসবুকের একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয় ছাত্রদল নেতা আবিদ জুতাপেটার শিকার হয়েছে দাবিতে। ভিডিওতে আবিদের ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে যুক্ত করে লেখা, “কবিতার মতো করে মিথ্যা বলা, আবিদুল কে জুতা পেটা করলেন ঢাবি শিক্ষার্থী।🫢😅” তবে, সেখানে যে ব্যক্তিকে সরাসরি জুতাপেটা করা হচ্ছিল তার চেহারা সম্পাদনা করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ক্যাপশনে লেখা, “কলেজ ছাত্রীকে উত্তক্ত করার , জুতা-পিটুনি দিয়ে নিজের হাতে বিচার করলেন শিক্ষার্থী।” (বানান অপরিবর্তিত) 

১৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গাড়িতে বসা এক যুবককে ঘিরে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। তাকে বারবার জুতাপেটা করছেন একাধিক নারী। আশেপাশে অনেকে জড়ো হয়ে দৃশ্যটি দেখছেন। উপস্থিত অনেকে তাকে আরও পেটাতে উৎসাহ দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ভিডিওটি লাখেরও অধিকবার দেখা হয়েছে এবং পোস্টে আট শর বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শেয়ার করা হয়েছে প্রায় ৫৫০ বার।

অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যম এক্সে “হিন্দু স্পিরিট” নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আজ, ২৮ এপ্রিল একই ভিডিও পোস্ট করা হয়। তবে এখানে জুতাপেটার শিকার ব্যক্তিটির চেহারা সম্পাদনা করা হয়নি। আর ইংরেজিতে লেখা ক্যাপশনের অনুবাদের অর্থ দাঁড়ায়, “একজন বাংলাদেশি জিহাদি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু ছাত্রীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার উদ্দেশ্যে ভুয়া পরামর্শ দিচ্ছিল। তারপর ছাত্রীরা সাহস দেখিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং জুতা-স্যান্ডেল দিয়ে মারধর করে। এরপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।” এখন পর্যন্ত ভিডিওটি ৪৮ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির বিভিন্ন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে সংবাদমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল প্রকাশিত সেই ভিডিওর শিরোনামে লেখা, “ঢাবি ক্যাম্পাসে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি বহিরাগত যুবকের, জুতা পেটা করলেন নারী শিক্ষার্থী।” ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিওর প্রথম ১৪ সেকেন্ডের সঙ্গে বর্তমানে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যপটের হুবহু সাদৃশ্য পাওয়া যায়। 

এ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে ঘটনা সম্পর্কিত কয়েকটি কিওয়ার্ড ধরে সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে দেখা যায়, একাধিক সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন গণমাধ্যমে (,,,,, ৬) ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। 

সংবাদমাধ্যম ইনকিলাবের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ছাত্রীদের অশালীন ইঙ্গিত এবং ইভটিজিংয়ের দায়ে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি ও জুতাপেটা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ওই ব্যক্তিকে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আলী মোহাম্মদের কাছ থেকে এ সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমটি নিশ্চিত হয়েছে বলেও জানানো হয়। 

অর্থাৎ, ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় ছাত্রদল নেতা আবিদকে জুতাপেটা করছে শিক্ষার্থীরা বা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেমের প্রলোভন দেখানো বাংলাদেশি জিহাদি যুবককে ছাত্রীরা মারধরে করেছে বলে ছড়ানো দাবিগুলো সঠিক নয়। মূল ঘটনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে বহিরাগত এক যুবককে ছাত্রীদের অশালীন ইঙ্গিত এবং ইভটিজিংয়ের দায়ে জুতাপেটা করার দৃশ্য।

আরো কিছু লেখা