হবিগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন, এমন দাবিতে সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি এক মাসের বেশি পুরোনো এবং লক্ষ্মীপুরের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার।
শিপন ইসলাম নামের একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২৮ জুলাই ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মাটিতে রাখা একটি মরদেহের সামনে আহাজারি করছেন একজন। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, “হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত…।”

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটি দেড় লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং সাড়ে আটশর বেশি শেয়ার হয়েছে। মন্তব্যে একজন মৃত ব্যক্তি কোন দলের তা জানতে চেয়েছেন। আরেকজন লিখেছেন, “যারা এই মহৎ কাজটা করেছে তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, জাতি আপনাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকিবে।” একজন বিষয়টিকে “নাটকের মহড়া” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অনুসন্ধানে ভিডিওর কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে ‘আমার টিভি টোয়েন্টিফোর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১৭ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। ওই পোস্টে লেখা ছিল, “যে কাঁধে ছিল সন্তানের স্বপ্ন, সেই কাঁধেই ফিরল ছেলের মরদেহ।” পেজটির এডমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ভিডিওটি মোবাইল চুরির অপবাদে লক্ষ্মীপুরের এক ছাত্রাবাসে এক ছাত্রকে হত্যা করার পরের ঘটনার।
কিওয়ার্ড সার্চে ফেসবুকে ১৭ ও ১৮ জুন একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ঘটনার ভিডিও (১, ২) খুঁজে পাওয়া যায়। বাদশা ফাহাদ নামের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে করা পোস্টে নিহতের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করা হয়। ১৭ জুনের এই পোস্টে বলা হয়, এর আগের দিন রামগঞ্জের ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাসে মেহেদী নামে এক ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। হোস্টেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে চাটখিল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় এই পোস্টে।

অনুসন্ধানে এ বিষয়ে ১৭ জুন দ্য ডেইলি স্টার ও যুগান্তর পত্রিকাসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিস্তারিত প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৬ জুন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে অষ্টম শ্রেণির এক আবাসিক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারানোর জেরে মেহেদীকে চোর সন্দেহে নয়জন সিনিয়র শিক্ষার্থী মারধর করে, যাতে তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনা আড়াল করতে মরদেহ জানালার গ্রিলে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
অর্থাৎ, হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার। হবিগঞ্জের রাজনৈতিক কোনো সংঘর্ষের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

