
ফেসবুকে সম্প্রতি এক নারী ও পুরুষের জড়িয়ে ধরার ভিডিও বিএনপি নেতার নামে ছড়ানো হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। একই ভিডিও ২০২১ সালেও পোস্ট হতে দেখা গেছে। সেই পোস্টের ক্যাপশন এবং সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা চিত্ত রঞ্জন দাস।
ফেসবুকে এমন দাবিতে প্রচার হওয়া সবচেয়ে পুরোনো পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায় ‘আবির হাশমি (Abir Hashmi)’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলে। গত ২১ জুলাই রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা ছিল, “বি.এনপি নেতার সাহেবের লুডু খেলার ভিডিও, অনেক ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রকাশ করি না। আপনারা বাধ্য করলে করব।” এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টটিতে সাতশ’র বেশি প্রতিক্রিয়া আসলেও শেয়ার হয়েছে দুই হাজার আটশ বারের বেশি।

একই দিন রাত ১১টা ৩৯ মিনিটে ‘দাঁড়িপাল্লা দাঁড়িপাল্লা (Daripalla Daripalla)’ নামের একটি প্রোফাইল থেকেও একই ভিডিও পোস্ট করা হয়।
পরে ‘তৌহিদুল ইসলাম হৃদয় (Touhid Islam Hridoy)’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে গত ২২ জুলাই বিকাল ৫ টা ৩১ মিনিটে ভিডিওটি ছড়ানো হলে তা অনেক শেয়ার হতে দেখা যায়। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টটিতে ১ হাজার ৪০০ -এর বেশি প্রতিক্রিয়া এবং ১ হাজার ৪০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। দেখা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি বার ।
কিওয়ার্ড সার্চে এমন আরও ৩২ টি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। যা একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল, পেজ ও গ্রুপ থেকে আপলোড করা হয়েছে।
ভিডিওর কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করে ফেসবুকে ২০২১ সালে পোস্ট হওয়া একই দৃশ্যের ভিডিও সামনে আসে। ওই পোস্টে লেখা আছে, “সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন দাসের আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস। চিত্ত রঞ্জন দাস ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিল।”

পরে কিওয়ার্ড সার্চ করলে এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও পাওয়া যায় (১, ২, ৩)। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, ভিডিওর ওই ব্যক্তি কোনো বিএনপি নেতা নন। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন দাস।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ২০২১ সালে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী সবুজবাগ থানায় একটি মামলা করেন। চিত্ত রঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করা হয়। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সে সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ চিত্ত রঞ্জন দাসকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে।
অর্থাৎ, ভিডিওর ওই ব্যক্তি কোনো বিএনপি নেতা নন। তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা চিত্ত রঞ্জন দাস।