
গলায় জুতার মালা পরিহিত ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের একটি ছবি ও ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ছবি ও ভিডিও- দুটোই এআই দিয়ে সম্পাদিত।
দাদা ভাই নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি ও শিপন ইসলাম নামের প্রোফাইল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। দুটি পোস্টের ক্যাপশন অভিন্ন। ক্যাপশনে লেখা হয়, “আলহামদুলিল্লাহ ❤️ আল্লাহর বিচার উপর থেকে সিদ্ধান্ত হয়ে আসে। জুলাই গাদ্দার, স্বাধীনতা বিরোধী বিহারী বংশতে জন্ম নেয়া, মব সন্ত্রাস কট হয়ে গেছে।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছবি ও ভিডিও দুটিতেই ৫০০-এর বেশি প্রতিক্রিয়া এসেছে। ভিডিওটি এখন পর্যন্ত শেয়ার হয়েছে দেড় শর বেশি।

সত্যতা যাচাইয়ে ছবিটি রিভার্স সার্চ দিলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কাছাকাছি দৃশ্যের একই ছবি খুঁজে পাওয়া যায় (১, ২, ৩)। দুটি ছবিতে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও অন্যান্য ব্যক্তি হুবহু একই। আশেপাশের দৃশ্যও পুরোপুরি মিলে যায়। তবে গলায় জুতার মালা সদৃশ কিছু খুঁজে দেখা যায়নি মূল ছবিতে।
সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বরিশালে সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ছাত্রদল ও স্থানীয়দের একাংশের হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন।
কাছাকাছি দৃশ্যের ছবি দিয়ে দেশ টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা হয়, “চাঁদা নিয়ে কথা বলে নিজ এলাকায় তোপের মুখে ব্যারিস্টার ফুয়াদ।” প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়, “নিজের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে জনসাধারণের তোপের মুখে পড়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ব্যারিস্টার ফুয়াদ। এ সময় তাকে ঘিরে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেয় জনতা। রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।” একই ছবি ব্যবহার করে প্রকাশিত অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এ ঘটনা সম্পর্কে কাছাকাছি তথ্য জানানো হয়।
অধিকতর যাচাইয়ে ছবিটি এআই শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি দিয়ে পরীক্ষা করলে সিন্থআইডির ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা যায়। সিন্থআইডি জানায়, “সিন্থআইডি স্ক্যানের ওপর ভিত্তি করে একটি ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে এই ছবিটির কিছু অংশ বা সম্পূর্ণ ছবিটি গুগল এআই টুল ব্যবহার করে তৈরি বা এডিট করা হয়েছে।”
এছাড়া, একই দৃশ্যের ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ভিডিওতে থাকা দৃশ্যের সঙ্গে ছবির দৃশ্যের মিল রয়েছে। তবে ভিডিওর ওপরে মেটা এআই- এর একটি লোগো দেখা যায়, যা ভিডিওটি মেটা এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে বলে নির্দেশ করে।
অধিকতর যাচাইয়ে এআই শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে পরীক্ষা করা হলে টুলটি জানায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
অর্থাৎ, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের গলায় জুতার মালা পরিহিত ছবি ও ভিডিও দুটোই এআই দিয়ে সম্পাদিত।