সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসীর মৃতদেহকে সীমান্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে প্রচার

জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসীর মৃতদেহকে সীমান্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে প্রচার

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

ত্রিপুরা সীমান্তে অনুপ্রবেশের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গুলি করেছে, এমন দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম এক্সে ছড়িয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি ভুয়া। সংবাদমাধ্যম প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগাঁওয়ের। সেখানে ঘন জঙ্গলে সন্ত্রাসবিরোধী “অপারেশন আখাল” অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে কয়েকজন নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত একজনের মৃতদেহের দৃশ্য এটি।

সামাজিক মাধ্যম এক্সের একটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৪ জুন ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ঘাসের উপর এক ব্যক্তি পড়ে আছে। ক্যাপশনের লেখা বাংলায় অনুবাদ করলে অর্থ দাঁড়ায়, “আজ বিএসএফ ত্রিপুরা সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী এক বাংলাদেশি ‘কাঙ্গ্লু’কে শেষ করে দিয়েছে.. 🎯🫡😍 জয় হিন্দ বিএসএফ” (ভাষা অপরিবর্তিত)। এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত, ভিডিওটি ৩ হাজার ৪০০ এর অধিক দেখা হয়েছে এবং ১৮১ বার রিপোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৫১৫ জন। একাধিক এক্স অ্যাকাউন্ট (,) থেকে ত্রিপুরার অনুপ্রবেশকারী দাবি করে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

ফ্যাক্টচেক জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসীর মৃতদেহকে সীমান্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে প্রচার
ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া এক্স পোস্টের স্ক্রিনশট।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ২০২৫ সালের ২ আগস্ট ভারতীয় গণমাধ্যম দৈনিক ভাস্করের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা, “জম্মু ও কাশ্মীরে আহত হয়ে ২ সেনার মৃত্যু, ১ সন্ত্রাসী নিহত: কুলগাঁও ‘অপারেশন আখাল’ দিনে গড়ানোর সাথে সাথে এ পর্যন্ত ৩ সন্ত্রাসী নির্মূল করা হয়েছে”, প্রতিবেদনের ভিডিওটির সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে।

বিস্তারিত যাচাইয়ে বিভিন্ন কিওয়ার্ড দিয়ে যাচাই করলে উইয়ন নামে আরেকটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে গতবছরের ২ আগস্ট একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, “জম্মু-কাশ্মীর: কুলগাঁওয়ে বন্দুকযুদ্ধে আরও এক সন্ত্রাসী নিহত, মোট ২। নিহত হারিস নাজিরদার নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য ছিল।”

ফ্যাক্টচেক জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসীর মৃতদেহকে সীমান্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে প্রচার
মূল ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন।

একাধিক গণমাধ্যমে (,,,,) কুলগাঁওয়ের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগাঁওয়ের গভীর জঙ্গলে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট, শুক্রবার রাত থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী জঙ্গি নিধনে অভিযান ‘অপারেশন আখাল’ পরিচালনা শুরু হয়েছিল। ১১ দিন ধরে এই অভিযান চলেছিল। ২ আগস্ট পর্যন্ত অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে দুই সন্ত্রাসীর। 

অর্থাৎ, ত্রিপুরা সীমান্তে অনুপ্রবেশের সময় এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গুলি করেছে বিএসএফ এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভুয়া। মূল ভিডিওটি প্রায় ১০ মাস পুরোনো, কুলগাঁওয়ে সংঘটিত “অপারেশন আখাল” নিহত হওয়া এক সন্ত্রাসীর।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছিল। 

আরো কিছু লেখা