সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনার তুলনামূলক দৃশ্য দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, প্রচারিত ভিডিওর কোনো দৃশ্যই সিঙ্গাপুর বা বাংলাদেশের নয়। ভিডিওটিতে ‘বাংলাদেশ’ হিসেবে দেখানো দৃশ্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। আর ‘সিঙ্গাপুর’ হিসেবে প্রচারিত দৃশ্যটি থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের।
ফেসবুকে ‘প্রবাসী কাওসার কেএসএ’ (Probashi Kawsar KSA) নামের একটি পেজ থেকে গত ৪ অক্টোবর ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখা হয়, “আমার সোনা বাংলাদেশ।” ভিডিওটিতে একই ফ্রেমে দুটি ভিন্ন দৃশ্যের তুলনা দেখা যায়। ওপরের অংশে ‘সিঙ্গাপুর’ নাম দিয়ে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে সতর্কতার সঙ্গে লাগেজ গুছিয়ে রাখতে দেখা যায়। নিচের অংশে ‘বাংলাদেশ’ নাম দিয়ে উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানোর সময় অব্যবস্থাপনার দৃশ্য যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ২৬ লাখ বার দেখা হয়েছে এবং প্রায় ১০ হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে।
যাচাইয়ে ভিডিওর ‘বাংলাদেশ’-এর দৃশ্য দাবি করা অংশ থেকে কিফ্রেম নিয়ে রির্ভাস ইমেজ সার্চ করলে ‘thevumediaa’ নামের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে গত ৪ এপ্রিল প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর সাথে বাংলাদেশের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে। ওই ভিডিওর বর্ণনা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, একটি বিমানবন্দর টার্মিনালের ভেতর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি বাণিজ্যিক বিমান থেকে মালামাল নামানোর সময় ব্যাগেজ হ্যান্ডলাররা বেপরোয়াভাবে যাত্রীদের লাগেজ ছুড়ে ফেলছেন। তবে বর্ণনায় বলে দেওয়া হয়েছে, এই ভিডিওটি এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি কেবল বিনোদনের জন্য তৈরি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর এই অংশে বেশ কিছু অসামঞ্জস্য ফুটে ওঠে। যেমন, বিমান থেকে ছুড়ে ফেলার পরপরই লাগেজের রং বদলে যাচ্ছে। আবার বিমান থেকে লাগেজ ফেলতে দেখা গেলেও নিচে পড়ার আগে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। বাড়তি যাচাইয়ে এআই শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশন দিয়ে পরীক্ষা করে ডিসমিসল্যাব। ফলাফলে দেখা যায়, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিও হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
উল্লেখ্য, ‘thevumediaa’ নামের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে নিয়মিত এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ‘সিঙ্গাপুর’-এর দৃশ্য দাবি করা অংশটি যাচাইয়ে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে গত ৪ অক্টোবর বৈশাখী মিডিয়া নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। “এ কেমন এয়ারপোর্ট, যে কাজে প্রশংসায় ভাসছেন এয়ারলাইন্স কর্মীরা!” শিরোনামে প্রকাশিত ওই ভিডিওর শুরুর অংশের সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়।
ভিডিওতে ধারাবিবরণীর ভঙ্গিতে বলতে শোনা যায়, খুব সতর্কতার সঙ্গে যাত্রীদের লাগেজ সামলাচ্ছেন এয়ারলাইন্সের এক কর্মী। একটি ব্যাগ যেন অন্যটির সঙ্গে জোরে ধাক্কা না খায় কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেই তার সজাগ দৃষ্টি। যাত্রীদের সেবায় এমন যত্নশীল দৃশ্য দেখা গেছে থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এই কর্মীর এমন দায়িত্বশীল আচরণ নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।

অর্থাৎ, থাইল্যান্ডের বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনার চিত্র এবং এআই দিয়ে তৈরি একটি ভিডিওকে যুক্ত করে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের বিমানবন্দরের তুলনামূলক দৃশ্য দাবি করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

