মশাল হাতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের দাবিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দাবিটি মিথ্যা। ভিডিওটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক গ্রামে বন্নি উৎসবকে কেন্দ্র করে পুণ্যার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য।
‘পৌর আওয়ামী লীগ’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে গত ২৪ অক্টোবর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা ছিল, “এই মুহূর্তে: অলরেডি খেলা শুরু হয়ে গেছে। কর্মসূচিতে বাধা এলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের মাধ্যমেই তার জবাব দিতে হবে। কাফনের কাপড় পরে আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মশাল মিছিল। সবাই শেয়ার করে দিবেন বেশি বেশি।” (ভাষা অপরিবর্তিত)। ভিডিওতে মশাল ও লাঠি হাতে একদল মানুষকে এক ব্যক্তির ওপর হামলা চালাতে দেখা যায়।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ৭০ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং ৭০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে।
ফেসবুকের একাধিক প্রোফাইল ও পেজ (১, ২, ৩) থেকেও ভিডিওটি পোস্ট হতে দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে গত ২২ অক্টোবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। “দেবরাগাট্টু বন্নি উৎসবে রক্তপাত, মন্দিরের মূর্তির জন্য ঐতিহ্যবাহী লাঠিযুদ্ধে একজন নিহত ও ৬০ জনেরও বেশি আহত” শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে যুক্ত ভিডিওর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির দৃশ্যের মিল রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে মালা মল্লেশ্বর স্বামী মন্দিরে বার্ষিক বন্নি উৎসবকালে পুণ্যার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ত্রিপুরাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘জাগরণ ত্রিপুরা ডটকম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালা মল্লেশ্বর স্বামী মন্দিরে বন্নি উৎসবে প্রতিবছর লাঠিযুদ্ধের আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর মন্দির-সংলগ্ন পাঁচ গ্রামের মানুষ দুটি দলে ভাগ হয়ে এই উৎসবে অংশ নেয়।

অর্থাৎ, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে একটি উৎসবে পুণ্যার্থীদের লাঠিযুদ্ধ থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষের ভিডিওকে আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

