
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মিছিল হয়েছে, দাবিতে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায় ভিডিওটি ২০২৪ সালে গোপালগঞ্জের বিক্ষোভ মিছিলের একটি দৃশ্য।
‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ২৩ জুন ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে মিছিল ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। প্রতিকূলতা ও বাধা উপেক্ষা করে নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।”

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি দেড় শর অধিক বার শেয়ার হয়েছে। আরও একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকেও ভিডিওটি পোস্ট হতে দেখা গেছে (১, ২, ৩)।
কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করা হলে ২০২৪ সালের ০৬ আগস্ট পোস্ট হওয়া হুবহু একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা আছে, “আমাদের সংগ্রাম চলছে চলবে,,,, শেখ হাসিনা এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে,,,,।” ভিডিওর মধ্যে লেখা আছে, “আমাদের সংগ্রাম চলছে চলবে শেখ হাসিনা এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে। উত্তাল গোপালগঞ্জ।” পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পেজটির পরিচালক জি এম সাহাবউদ্দিন আজম নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সূত্রটি ধরে অনলাইনে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে ডিসমিসল্যাব প্রথম আলোর ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পায়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়– “পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ।” ওই ভিডিওতে যে ফুটেজগুলো দেখা যায়, তার সঙ্গে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখতে পাওয়া একাধিক স্থাপনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মিছিলের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি পুরোনো।
এর আগেও একই ভিডিও ভিন্ন দাবিতে পোস্ট করা হলে ডিসমিসল্যাব তা যাচাই করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রসঙ্গত, আজ ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ দিনকে কেন্দ্র করে দলটির নেতা–কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল করেছেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগের। ২০২৫ সালের ১০ মে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। ২০২৫ সালের ১১ মে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে কোনো কোনো সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে।