তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
This article is more than 2 months old
ফ্যাক্ট চেক পীরের আস্তানায় হামলাকে হিন্দু সংখ্যালঘুর ওপর আক্রমণ বলে প্রচার

পীরের আস্তানায় হামলাকে হিন্দু সংখ্যালঘুর ওপর আক্রমণ বলে প্রচার 

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সম্প্রতি হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে একটি স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যম এক্সে। দাবি করা হচ্ছে ভিডিওটি বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু ও তাদের মন্দিরে হামলার ঘটনার। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার এক পীরের আস্তানায় হামলার দৃশ্য এটি। 

“ইসলামি প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশে” সংখ্যালঘুদের অবস্থা দাবিতে একটি ভিডিও এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে। ২২ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একদল লোক একটি ভবনের ছাদে উঠে লাঠিসোঁটা দিয়ে সেটি ভাঙচুর করছে। ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরও কয়েকজন। পোস্টটি দুই হাজারের বেশিবার শেয়ার হয়েছে, ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ত্রিশ হাজার বার। মন্তব্যে কেউ লিখেছেন, “হিন্দু মন্দির ধ্বংস করা হচ্ছে.. লজ্জাজনক”, কেউ বলছেন, “সারা বিশ্বের হিন্দুদের অবস্থা এখন এইরকমই।”

এই পোস্ট শেয়ার করে একজন লিখেছেন, “এটি বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং হিন্দু মন্দিরের বিরুদ্ধে ঘটছে”। ভিডিওটি শেয়ার করে আরেকজন লিখেছেন, “বাংলাদেশে একটি মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই হৃদয়বিদারক ভিডিওটি হিন্দু সংখ্যালঘুদের চলমান অসহায়ত্বের বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছে।”

ফ্যাক্ট চেক পীরের আস্তানায় হামলাকে হিন্দু সংখ্যালঘুর ওপর আক্রমণ বলে প্রচার
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো এক্স পোস্টের স্ক্রিনশট।

অপর এক ব্যবহারকারী পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন, “বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুরা সবসময় ইসলামিক সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়।” একজন ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “এখন দেখ হিন্দুদের কী অবস্থা”। “সেভ বাংলাদেশি হিন্দুস” কিংবা “হিন্দুস আন্ডার অ্যাটাক” হ্যাশট্যাগ দিয়ে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা গেছে একাধিক এক্স ব্যবহারকারীকে। 

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে তা সংবাদমাধ্যম বার্তা২৪ এর ইউটিউব পেজে প্রচারিত একটি ভিডিওর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। সংবাদমাধ্যমটিতে গত ১১ এপ্রিল পোস্ট করা ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হা ম লা চালিয়ে কথিত পীরকে হ ত্যা, ভা ঙচুর-আ গুন।” এই ভিডিওর সঙ্গে বর্তমানের বলে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্য হুবহু মিলে যায়। 

তাছাড়াও বাংলা ভিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের প্রতিবেদনের ১৬ সেকেন্ড থেকে ৩৭ সেকেন্ড- এই ২২ সেকেন্ডই সম্প্রতি ভিন্ন দাবিতে ছড়াচ্ছে। গত ১১ এপ্রিল প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনের ক্যাপশনে বাংলা ভিশন নিউজ লিখেছে, “কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হা/ম/লা চালিয়ে কথিত পীরকে পি’টিয়ে হ/ত্যা’।

ফ্যাক্ট চেক পীরের আস্তানায় হামলাকে হিন্দু সংখ্যালঘুর ওপর আক্রমণ বলে প্রচার
মূল ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

অধিকতর যাচাইয়ে, প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ দিলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের এই বিষয়ক প্রতিবেদন (, , ) পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় নামক স্থানে গড়ে ওঠা এক পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার আস্তানার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬০) নিহত হন।

অর্থাৎ, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু ও তাদের মন্দিরে হামলা দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার এক পীরের আস্তানায় হামলার ঘটনার। এর সঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরে হামলা কিংবা তাদের ওপর আক্রমণের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। 

আরো কিছু লেখা