নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক আওয়ামী লীগ করার কারণে নারী নির্যাতনের দাবি

আওয়ামী লীগ করার কারণে নির্যাতনের দাবি, ভিডিও ভিন্ন ঘটনার

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, শরিয়তপুরে একজন নারীকে আওয়ামী লীগ করার কারণে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি সত্য নয়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে এক গৃহবধূর সঙ্গে বিরোধ ছিল দেনাদারদের। এর প্রেক্ষিতে ওই নারীকে মাদক বিক্রি ও হানি ট্র্যাপে জড়িত থাকার অভিযোগে মারধর করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ জুন শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকার শাবনুর মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১৫ জুন একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “পরিবারের লোকজন আওয়ামী লীগ করার কারনে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে খুটিতে বেধে মুখে কালি মেখে নারী কে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। ঘটনাটি শরিয়তপুর সদর,পালং থানায়।” ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গোলাপি রঙের সালোয়ার কামিজ পরিহিত এক নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। নারীর মুখে কালি এবং গলায় জুতা ঝুলতে দেখা যায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৮৩৮বার শেয়ার হয়েছে এবং ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৪৯ হাজার বারের বেশি।

ফ্যাক্টচেক আওয়ামী লীগ করার কারণে নারী নির্যাতনের দাবি
ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

ফেসবুকের একাধিক (,,,,) ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।  

সত্যতা যাচাইয়ে কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ১৩ জুনে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন সামনে আসে। এ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “প্রতিবেশীর সাথে বিরোধ; শরীয়তপুরে নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর।” প্রতিবেদনের বিস্তারিত বিবরণে লেখা, “শরীয়তপুরে মাদক বিক্রির অভিযোগে দুই সন্তানের মাকে মারধর ও চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সকালে পৌর এলাকার পালং শাবনূর মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।“ পুলিশ জানায়, আর্থিক লেনদেন নিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে বিরোধ হয় প্রতিবেশী দেলোয়ারের। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার ফলে একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে মারধর করে চুল কেটে দেয় এবং মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে তার মুখে আলকাতরা মেখে ও গলায় জুতার মালা পড়িয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়। এ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ভিডিওর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। 

অধিকতর যাচাইয়ে ১৪ জুনে প্রকাশিত এটিএন বাংলার একটি লিখিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর নারীর জামা, পারিপার্শ্বিক দৃশ্যের মিল রয়েছে। প্রতিবেদনে লেখা হয়, “শরীয়তপুরে মাদক বিক্রি ও হানিট্র্যাপে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীকে মারধর করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার মাথার চুল কেটে মুখে কালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।”

ফ্যাক্টচেক আওয়ামী লীগ করার কারণে নারী নির্যাতনের দাবি
মূল ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, “শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার একজন প্রবাসীর স্ত্রী (৩৭) সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। ওই এলাকার দেলোয়ার কোটারির পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে তিনি টাকা ধার দিয়েছিলেন। ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিরোধ শুরু হয়।”

এছাড়াও একাধিক (,,) গণমাধ্যমে ঘটনাটিকে মাদক বিক্রির অভিযোগে নারীকে নির্যাতনের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কোনো প্রতিবেদনেই নারীটির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কিছু বলা হয়নি। 

অর্থাৎ, শরিয়তপুরে এক নারীকে আওয়ামী লীগ করার কারণে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করার দাবিতে ছড়াচ্ছে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও।  

আরো কিছু লেখা