নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক, হিজাব না পড়ার কারণে গ্রেপ্তার, ভিন্ন ভিডিও

ভারতে হিজাব পরায় গ্রেপ্তারের দাবিতে ছড়ানো দুই ভিডিও ভিন্ন ঘটনার

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

ফেসবুকে দুটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, ভারতে হিজাব পরে রাস্তায় বের হওয়ায় দুই মুসলিম নারীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিও দুটি ভিন্ন দুটি ঘটনার। একটি ভিডিওতে গত সেপ্টেম্বরে ভারতের উত্তর প্রদেশে বিক্ষোভ চলাকালে সমাজবাদী পার্টির এক কর্মীকে গ্রেপ্তারের দৃশ্য রয়েছে। অন্য ভিডিওটি গত মে মাসে আগ্রায় আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক নারীকে উদ্ধারের।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ৮ অক্টোবর, “হি জা ব পড়ার কা রণে” ক্যাপশনে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর এক অংশে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের একজন মুসলমান বোন হিজাব পরে রাস্তায় বের হয়েছিল ইন্ডিয়াতে। এটার জন্য দেখেন তার হিজাব টেনে হিঁচড়ে খুলে ফেলছে, তাকে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে।” এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত ভিডিওটি ৫ হাজার ৭০০ বারের বেশি দেখা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক, হিজাব না পড়ার কারণে গ্রেপ্তার, ভিন্ন ভিডিও
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

পোস্টে দুটি ভিন্ন ভিডিওর দৃশ্য দেখা যায়। ওপরের ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারীর হাত থেকে দুজন নারী পুলিশ সদস্য একটি বস্তু কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ভিডিওটির কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে নিজেদের সংবাদমাধ্যম হিসেবে দাবি করা “ফার্স্ট ট্র্যাক নিউজ” এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৩ মে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, “অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সাব-ইনস্পেক্টর শ্বশুরের মারধরের শিকার হয়ে ক্ষুব্ধ এক নারী ডিসিপি সিটি অফিসে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান, তবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।” ভিডিওটির প্রথম ১৫ সেকেন্ডের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। এ সময় নারীটিকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, “আমি মরতে চাই।”

কিওয়ার্ড সার্চে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম অমর উজালায় গত ২২ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্বশুরের মারধরে বিরক্ত হয়ে আগ্রায় এক নারী ট্রান্স-যমুনা পুলিশ স্টেশনে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ডিসিপি এ ব্যাপারে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা দেন।  

ফ্যাক্টচেক, হিজাব না পড়ার কারণে গ্রেপ্তার, ভিন্ন ভিডিও
মূল ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত ভারতীয় প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

নীচের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য পুলিশ ভ্যানে তোলার চেষ্টা করছেন, এবং নারীটি পুলিশদের প্রতিহত করে যাচ্ছেন। ভিডিওটির কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১১ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি শর্টস পাওয়া যায়। এই শর্টসটির শিরোনাম ছিল, “৫ জন মহিলা পুলিশ সদস্যকে একা হাতেই নাকানিচুবানি খাইয়ে ছাড়লেন এই সপা কর্মী।” শর্টসের বিবরণে লেখা, “উত্তর প্রদেশে রাজনৈতিক বিক্ষোভের একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে! বিক্ষোভ চলাকালীন আটক করতে আসা ৫ জন মহিলা পুলিশ সদস্যকে সমাজবাদী পার্টির এক মহিলা কর্মী একা হাতেই পরাস্ত করতে দেখা যায়। পুলিশ দল যখন তাঁকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছিল, তিনি এমন তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন যে ৫ জন মহিলা পুলিশ সদস্য একদম হিমশিম খেয়ে যান।” ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।

 অর্থাৎ, হিজাব না পরার কারণে গ্রেপ্তারের দাবিতে ছড়াচ্ছে ভারতের দুটি ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য।

আরো কিছু লেখা