হাতে-পায়ে ব্যান্ডেজ, আর ক্রাচে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, এমন একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। একই ভঙ্গি ও পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকা সারজিস আলমের একটি ছবিতে এআই ব্যবহার করে ব্যান্ডেজ ও ক্রাচ জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
‘দৈনিক বাংলাদেশ সংবাদ’ নামের একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ২৯ জুলাই ছবিটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা, “এনসিপি নেতা সারজিস আলমের ওপর হা ম লা!” ছবিটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সারজিস আলম আহত অবস্থায় ক্রাচে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তার বাম হাত ও ডান পা ব্যান্ডেজ করা। তার পেছনে কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন।

একই ছবি ফেসবুকের একটি গ্রুপে পোস্ট করে লেখা হয়, “এইসব দেখার জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। এগুলা ঠিক না। দেশের ভিতর এইসব করে শান্তি নষ্ট করার মানে যে কি তা আমি সত্যিই বুঝতে পারি না।”। পোস্টের মন্তব্যে একজন লিখেছেন, “দেখাইলি হাতে একটু কাটছে।।।।।এখন দেখি পুরা শরিরে প্লাস্টার,,,,ওরে নাটকরে,,,,,মনে হয় আগুনে পুডে গেছে সব” (বানান অপরিবর্তিত)। আরেকজন লিখেছেন, “হারুন কিসিঞ্জারের মতো অভিনয় করতে পারে। বেন্ডেজের উপর কিছু লাল রং দিলে আরো ভালো দেখা জাইবে” (বানান অপরিবর্তিত)।
এছাড়াও ছবিটি ফেসবুক গ্রুপ (১), ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট (১) ও ইউটিউবেও (১) ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এর মধ্যে একটি ফেসবুক পোস্ট শতাধিক বার শেয়ারও করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে ডিসমিসল্যাব ওপেনএআই-এর নিজস্ব কন্টেন্ট শনাক্তকারী টুল দিয়ে ছবিটি পরীক্ষা করে। ফলাফলে দেখা যায়, ছবিটি ওপেনএআই-এর টুল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ছবিতে ওপেনএআই থেকে আসা সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে বলে জানায় এই টুল। এআই ছবি শনাক্তকরণ টুল ইমেজহুইস্পারার জানায়, ছবিটি সাজানো বা ডিজিটালভাবে বিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এসব প্রতিবেদনে আহত সারজিস আলমের যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে তাতে তার মুখভঙ্গি, পোশাক, পেছনের দুটি দরজা ও তার সামনে দাঁড়ানো দুই ব্যক্তির পোশাকের সাথে ছড়িয়ে পড়া ছবি মিলে যায়। তবে এসব ছবিতে তার হাতে বা পায়ে কোনো ব্যান্ডেজ কিংবা ক্রাচ দেখা যায়নি। এতে বোঝা যায়, প্রতিবেদনে ব্যবহৃত এই ছবিটি ব্যবহার করেই হাতে-পায়ে ব্যান্ডেজ ও ক্রাচ যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, সারজিস আলমের একটি ছবিতে এআই সম্পাদনার মাধ্যমে ব্যান্ডেজ ও ক্রাচ জুড়ে দিয়ে প্রচার করা হয়েছে।

