মৌ দাস

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
বিএনপি নেতা-কর্মীদের হাতে অস্ত্রের ছবিটি এআই দিয়ে সম্পাদিত

বিএনপি নেতা-কর্মীদের হাতে অস্ত্রের ছবিটি এআই দিয়ে সম্পাদিত

মৌ দাস

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঠেকাতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অস্ত্র হাতে অবস্থান নিয়েছেন, এমন দাবিতে ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে সম্পাদিত।

ফেসবুকে জয়নাল জিলানি (Joynal Gilani) নামের একটি প্রোফাইল থেকে ৩ নভেম্বর ছবিটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা ছিল, “গার্মেন্টস শ্রমিককে ঠেকাতে রাস্তায় বিএনপি’র ক্যাডাররা অস্ত্র হাতে।” ছবিতে কয়েকজন ব্যক্তিকে হাতে অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের পেছনে পুলিশের সদস্যদেরও দেখা যায়। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত পোস্টটি ১ হাজার ৮০০ বার দেখা হয়েছে, অন্তত ১ হাজার ২০০ বার শেয়ার হয়েছে।

সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে সংবাদমাধ্যম আমাদের সময়ের একটি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। গত ২ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে মিরপুরে লাঠি হাতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মহড়া।”

ফেসবুকে ছড়ানো এআই-সম্পাদিত ছবির স্ক্রিনশট (বাঁয়ে) ও আমাদের সময়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মূল সংবাদচিত্রের স্ক্রিনশট (ডানে)

প্রতিবেদনটিতে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ছবির দৃশ্যের মিল রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে ব্যবহার করা ছবিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে লাঠি দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া ওই ব্যক্তিদের পেছনে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায় না। কিন্তু ফেসবুকে প্রচারিত ছবিতে অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের পেছনে পুলিশ সদস্যদের দেখা যাচ্ছিল।

একই ছবি আজকের পত্রিকা ও বার্তা বাজারের প্রতিবেদনেও ব্যবহার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম এনপিবি নিউজের ফেসবুক পেজে ২ নভেম্বর একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল। “উত্তপ্ত মিরপুর, পুলিশের সঙ্গে লাঠি হাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা” শিরোনামের সে ভিডিওর শুরুতে ছড়ানো ছবির ব্যক্তিদের দেখা যায়। দৈনিক ইত্তেফাকের ইউটিউব চ্যানেলে ২ নভেম্বর প্রকাশিত “না’শকতা ঠেকাতে মিরপুরে লা’ঠি হাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের অবস্থান” শিরোনামের ভিডিও প্রতিবেদনেও প্রচারিত ছবির ব্যক্তিদের দেখা যায়। প্রতিটি প্রতিবেদনেই ব্যক্তিদের কারও কারও হাতে লাঠি দেখা গেলেও কোনো অস্ত্র দেখা যায়নি।

ছবিটি ওপেন এআইয়ের ইমেজ বিশ্লেষণ-সংক্রান্ত টুল দিয়েও পরীক্ষা করা হয়। বিশ্লেষণে টুলটি জানিয়েছে, ছবিটি ওপেন এআই দিয়ে বানানো হয়েছে।

ওপেনএআইয়ের ইমেজ বিশ্লেষণ টুলের ফলাফলের স্ক্রিনশট

সুতরাং, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঠেকাতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অস্ত্র হাতে অবস্থান নিয়েছেন, এমন দাবিতে প্রচারিত ছবিটি বিভ্রান্তিকর। মূল ছবি সম্পাদনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে অস্ত্র বসানো হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশ সদস্যদেরও প্রচারিত ছবিতে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জয়নাল জিলানি নামের প্রোফাইল থেকে এর আগেও পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হয়েছে। ২ নভেম্বর এই প্রোফাইল থেকে একটি পোস্ট করে জানানো হয়, “গাজীপুরে পুলিশের গুলিতে নুরুজ্জামান সামি নামে ১০ বছর বয়সি শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত।” তবে প্রথম আলোর ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং শিশুটি আহত হয়েছে ইটের আঘাতে।

আরো কিছু লেখা