বাংলাদেশের দুই সংবাদমাধ্যম দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্কুলের পাঠ্যসূচি থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা বাদ পড়ছে। এর বদলে অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা বাদ পড়ার দাবিটি বিভ্রান্তিকর এবং তার কবিতার পরিবর্তে অবনীন্দ্রনাথের কবিতা যুক্ত করার তথ্যটিও ভুল। মূলত, বিশ্বকবির একটি কবিতা বাদ দিয়ে তারই অন্য একটি কবিতা যুক্ত করা হচ্ছে।
গত ৪ অক্টোবর দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন প্রতিবেদনের শিরোনামে ছিল, “পশ্চিমবঙ্গের স্কুল পাঠ্যসূচিতে বড় পরিবর্তন, বাদ পড়ছে রবীন্দ্রনাথের কবিতা।” দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন প্রতিবেদনের শিরোনামেও লেখা হয়, “পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্যবইয়ে বড় বদল: বাদ পড়ছে রবীন্দ্রনাথের কবিতা।” দৈনিক কালবেলার অনলাইন প্রতিবেদনের শিরোনামেও লেখা হয়, “পশ্চিমবঙ্গের সিলেবাস থেকে বাদ যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা।”

দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদনে লেখা হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্কুলের পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ পড়ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আফ্রিকা” কবিতাটি। এর পরিবর্তে সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শিবাজী উৎসব” কবিতাটি। একই তথ্য উল্লেখ করা হয় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনেও।
অন্যদিকে কালবেলার শিরোনামে রবীন্দ্রনাথের কবিতা বাদ পড়ার কথা উল্লেখ করা হলেও প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, “সরকার পরিবর্তনের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্কুলের পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন সিলেবাসে বাদ পড়তে চলেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা। এর পরিবর্তে সিলেবাসে যুক্ত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথেরই ‘শিবাজী উৎসব’ কবিতা।”

কালবেলার প্রতিবেদনেই লেখা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা বাদ দিয়ে তারই অন্য একটি কবিতা যুক্ত করা হচ্ছে। অথচ শিরোনামে বলা হয়েছে, বাদ যাচ্ছে তার কবিতা।
দাবির সত্যতা যাচাই করতে গেলে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে ভারতের সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দের একটি সংবাদ প্রতিবেদন। প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা, “WBSSE: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি বাদ সিলেবাস থেকে, অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে ‘শিবাজী উৎসব’।” প্রতিবেদনে বলা হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আফ্রিকা” কবিতাটি বাদ দেওয়া হচ্ছে সিলেবাস থেকে। সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান এবিপি আনন্দকে জানান, “সনাতনী পরম্পরার কথা মাথায় রেখে সিলেবাসে ‘শিবাজী উৎসব’ কবিতা ঢোকানো হচ্ছে। তার জন্যই ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি বাদ দেওয়া হচ্ছে।”

একই তথ্য পাওয়া যায় আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনেও। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, “বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতার বদলে ‘শিবাজী উৎসব’ পাঠ্যভুক্ত হচ্ছে। শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের পরিবর্তে ঠাঁই পাচ্ছে ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের ‘বঙ্গের প্রতাপাদিত্য’ নাটকটি।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯২৫ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “পূরবী”-তে “শিবাজী-উৎসব” কবিতাটি রয়েছে।
দৈনিক যুগান্তর এবং ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে করা দাবিটি তাই সত্য নয়। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সিলেবাস থেকে রবীন্দ্রনাথের কবিতা বাদ দিয়ে অবনীন্দ্রনাথের কবিতা যুক্ত করা হয়নি।
অন্যদিকে, কালবেলার শিরোনামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা বাদ দেওয়ার দাবিটিও বিভ্রান্তিকর। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ীর একটি কবিতা পরিবর্তন করে তারই ভিন্ন একটি কবিতা যুক্ত করা হয়েছে।

