
সামাজিক মাধ্যম ও ওয়েবসাইটে সম্প্রতি সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক ওরফে ব্যারিস্টার সুমনের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলায় জামিন পেয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, প্রচারিত ছবিটি এআই দিয়ে বানানো। তার জামিনের দাবিটিও সঠিক নয়।
ফেসবুকের একটি পেজ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যারিস্টার সুমনের ছবিটি পোস্ট করা হয়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় জেলখানার সামনে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফুলের তোড়া নিচ্ছেন ব্যারিস্টার সুমন। অনেক কর্মী-সমর্থক তাকে ঘিরে রয়েছে। ছবিতে ব্যারিস্টার সুমন ও তার বামপাশে থাকা ব্যক্তিকে গলায় ফুলের মালা পরা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “অবশেষে জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন এমপি। জয় বাংলা।”

এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত পোস্টে ১২ হাজারের অধিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং ছবিটি প্রায় আড়াই শ বার শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টে মন্তব্য করা হয়েছে অন্তত সাড়ে নয় শটি। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সুমন ভাই কোন আপষনয়”। আরেকজন মন্তব্য করেছেন,“আলহামদুলিল্লাহ, অনেক অনেক দোয়া এবং ভালোবাসা রইলো ব্যারিস্টার সুমন ভাইয়ের জন্য।”(বানান অপরিবর্তিত)।
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩, ৪) পেজ (১, ২) ও গ্রুপ (১, ২, ৩, ৪) থেকে একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়।
অন্যদিকে, এটিভি বাংলা নিউজ নামের একটি ওয়েবসাইটেও গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্যারিস্টার সুমনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল,“ব্যারিস্টার সুমন আজ মুক্তি পেলেন”।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ছবিটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে প্রচারিত ছবিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায়। ছবির নিচে ডান কোণে গুগলের জেমিনি এআইয়ের (Gemini AI) সাদা লোগো আছে। গুগলের এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে ছবি তৈরি বা সম্পাদনা করা হলে এই চিহ্ন থাকে।
ছবিতে পেছনে থাকা দুইটি ব্যানারের বাংলা হরফেও বেশ অসংলগ্নতা লক্ষ্য করা যায়। কোনো ব্যানারের লেখা ভালোভাবে পড়ার উপযোগী নয়। এছাড়া, ছবিতে সাবেক সংসদ সদস্যের চেয়ে বেশি ফুলের মালা তার পাশে থাকা ব্যক্তিটির গলায় পরা ছিল। এসব অসঙ্গতি দেখেই সন্দেহ হয় ছবিটি আসল নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সেটি তৈরি করা হয়েছে।
আরও বিস্তারিত যাচাইয়ে জেমিনির সিন্থ-আইডি ফিচার ব্যবহার করে জানা যায়, ছবিটি গুগলের এআই মডেল ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন ও এআই অর নট দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া দেশীয় কোনো সংবাদমাধ্যম বা অনলাইন গণমাধ্যমে ব্যারিস্টার সুমনের জামিনের ব্যাপারে কোনো প্রতিবেদনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের জামিনের দাবিতে প্রচারিত ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।