
সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, গোপালগঞ্জে পুকুরের পানির নিচে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মিলেছে। ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে বানানো। একাধিক এআই শনাক্তকারী টুল ছবিটিকে এআই হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া, গত ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে ২০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ জেলায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধারের দাবির কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।
“দেশ নিউজ ২৪.কম” নামের একটি পেজ থেকে গত ৬ এপ্রিল একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে বলা হয়, “গোপালগঞ্জে পুকুরের পানির নিচে মিলল ১০ হাজার লিটার ডিজেল।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি এক হাজারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে ৫ হাজারের বেশি।

এছাড়া আরও কিছু পেজ ও প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে ছবিটি ছড়ানো হয় (১, ২, ৩)।
সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর ও আরটিভিসহ একাধিক(১, ২) সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সামনে আসে। “চ্যানেল টোয়েন্টিফোর”- এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, “গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে ২০০ লিটারের এক ব্যারেল ডিজেল পুকুরে লুকিয়ে রাখার দায়ের এক তেল ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ এ জরিমানা করেন।” এছাড়া, অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও “২০০ লিটারের এক ব্যারেল ডিজেল” পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে, ১০ হাজার লিটার নয়।

ছবিটি বিশ্লেষণেও কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। দেখা যায়, পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চেহারাগুলো অস্বাভাবিকভাবে বিকৃত। পুলিশের পোশাকেও কিছু অমিল রয়েছে। পোশাকের ‘পুলিশ’ শব্দটির শেষ অক্ষরটি কোনো বাংলা অক্ষরের সঙ্গে মেলে না। এআই দিয়ে বানানো ছবিতে এমন বিকৃতি দেখা যায়। আবার একজন পুলিশ সদস্যকে দেখা যাচ্ছে, পুকুরের মধ্যে পানির উপর দাঁড়িয়ে থাকতে। পুকুরপাড়ে দাঁড়ানো দর্শনার্থীদের অনেকের ঊর্ধ্বাঙ্গের পোশাক পুলিশের পোশাকের অনুরূপ।
অধিকতর যাচাইয়ে ছবিটি এআই শনাক্তকারী টুল “হাইভ মডারেশন” ও “এআই অর নট”- এ পরীক্ষা করা হয়। “হাইভ মডারেশন” থেকে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ছবিটি এআই হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ। আর “এআই অর নট”- এর ফলাফল অনুযায়ী ছবিটি এআই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
অর্থাৎ, গোপালগঞ্জে পুকুরের পানির নিচে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মিলেছে দাবিতে ছড়ানো ছবিটি এআই দিয়ে বানানো।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধভাবে মজুত রাখা প্রায় ১০ হাজার ১শ’ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মজুত ও উচ্চমূল্যে বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।