তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
ALT TEXT: Write an SEO-optimized, claim-focused alt text that clearly includes the term ‘fact-check’ for this report.

একুশে ফেব্রুয়ারি, মে দিবসের ছুটি বাতিলের ভুয়া দাবি

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি, মে দিবসসহ বেশ কয়েকটি ধর্মীয় দিবস বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশের একাধিক গণমাধ্যমে দেশের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে জাতীয় ও ধর্মীয় এই দিবসগুলো সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (শুক্র ও শনিবার) পড়ায় আলাদা করে ছুটি দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। 

  • ALT TEXT: Write an SEO-optimized, claim-focused alt text that clearly includes the term ‘fact-check’ for this report.
  • ALT TEXT: Write an SEO-optimized, claim-focused alt text that clearly includes the term ‘fact-check’ for this report.

দৈনিক ইত্তেফাক, জাগোনিউজ, সময় সহ একাধিক (, , , ) গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, দেশের মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক ছুটির তালিকায় পবিত্র শবে মেরাজ, সরস্বতী পূজা, একুশে ফেব্রুয়ারি (শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস), মে দিবস, বুদ্ধ পূর্ণিমা, পবিত্র আশুরা, শুভ জন্মাষ্টমী, মধু পূর্ণিমা, শুভ মহালয়ার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে প্রকাশিত ছুটির তালিকার প্রজ্ঞাপনের বরাতে এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমগুলো।

সামাজিক মাধ্যমেও দৈনিক আজকের কন্ঠ, বাংলাদেশের খবর নামের গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজ থেকে ছড়ানো হচ্ছে একই বার্তা। দৈনিক আজকের কন্ঠের পোস্টটি শতাধিক বার শেয়ার করা হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি বাতিল বলে কুশিয়ারা নামের আরেকটি ফেসবু্ক পেজে লেখা হয়েছে, “৫৩ বছর পরে এসে ড. ইউনুসের অধীনে সরকারি ছুটির তালিকা থেকে বাতিল করা হলো একুশে ফেব্রুয়ারি!… এই ছুটি বাতিল কি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত? নাকি ১৯৫২-এর ইতিহাস মুছে ফেলার এক সুপরিকল্পিত উদ্যোগ?”

যাচাই প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ (সরকারি মাধ্যমিক-১) প্রকাশিত ছুটির তালিকার প্রজ্ঞাপন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত সেই প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, ছুটির তালিকায় পবিত্র শবে মেরাজ, সরস্বতী পূজা, একুশে ফেব্রুয়ারি (শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস), মে দিবস, বুদ্ধ পূর্ণিমা, পবিত্র আশুরা, শুভ জন্মাষ্টমী, মধু পূর্ণিমা ও শুভ মহালয়া— এই ৯ দিনেরই উল্লেখ আছে। তবে সরস্বতী পূজা, মে দিবস, বুদ্ধ পূর্ণিমা, পবিত্র আশুরা, শুভ জন্মাষ্টমী— এই ৫ দিন শুক্রবার আর পবিত্র শবে মেরাজ, একুশে ফেব্রুয়ারি, মধু পূর্ণিমা ও শুভ মহালয়া — এই ৪ দিন শনিবারে উদযাপিত হবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সেসব দিনে আর আলাদাভাবে ছুটি দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। 

বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে রেখা হয়েছে, শুক্র ও শনিবার যেসব দিবস পড়েছে, সেগুলো আলাদাভাবে ছুটির তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি। তাছাড়া প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারির মতো জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদায় বিদ্যালয়ে উদযাপন করতে হবে। 

অর্থাৎ, একুশে ফেব্রুয়ারি, মে দিবসসহ ৯টি বিশেষ দিন ২০২৬ সালে শুক্র ও শনিবারে উদযাপিত হবে। তাই আলাদাভাবে সে দিনগুলোতে ছুটি প্রয়োজন হয়নি, তবে প্রজ্ঞাপনের ছুটির তালিকায় ঠিক উল্লেখ আছে। অর্থাৎ, এসব ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসের ছুটি বাতিলের দাবিটি সঠিক নয়। 

আরো কিছু লেখা