তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check report examines misleading media claims that Islamic speaker Mufti Kazi Mohammad Ibrahim declared Bangladesh’s independence in 1971, based on an edited video.

গণমাধ্যমে কাজী ইব্রাহিমের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর দাবিতে প্রচার

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

ইসলামী বক্তা মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম নিজেকে স্বাধীনতার আসল ঘোষক দাবি করেছেন— এমন একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, মূল বক্তব্যে তিনি ২০২১ সালের কথা বলেছিলেন, ১৯৭১ সাল নয়। আড়াই মাস পুরোনো এক ভিডিওতে ভারত প্রসঙ্গে আলোচনায় তাকে এ বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

Fact-check report examines misleading media claims that Islamic speaker Mufti Kazi Mohammad Ibrahim declared Bangladesh’s independence in 1971, based on an edited video.
ভুল দাবিতে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

দৈনিক জনকণ্ঠ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এর কথা উল্লেখ করে জানায়, “১৯৭১ সালে গান পয়েন্টে দাঁড়িয়ে তিনিই প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়, মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজাকারদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত জনপ্রিয় স্লোগান ‘ধর ধর’ তাঁরই দেওয়া বলে তিনি দাবি করেন।” একই দাবি করে বার্তা বাজারসহ একাধিক গণমাধ্যম (, , )।

  • Fact-check report examines misleading media claims that Islamic speaker Mufti Kazi Mohammad Ibrahim declared Bangladesh’s independence in 1971, based on an edited video.
  • Fact-check report examines misleading media claims that Islamic speaker Mufti Kazi Mohammad Ibrahim declared Bangladesh’s independence in 1971, based on an edited video.

দ্য ডেইলি রিপাবলিক নামে এক সংবাদমাধ্যম “প্রতারক ইসলামপন্থী কাজী ইব্রাহিমের ১৯৭১ সালের ইতিহাস চুরির বিভ্রান্তিকর অপচেষ্টা” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসলামপন্থী এজেন্ডার জন্য তিনি বাংলাদেশের পবিত্র ইতিহাসকে একটি প্রহসনে পরিণত করছেন। সামাজিক মাধ্যমেও কাজী ইব্রাহিমের এই দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। 

কিওয়ার্ড সার্চে সামাজিক মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে মুফতি কাজী ইব্রাহিমের ২৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “প্রথম স্বাধীনতার ঘোষক নয় বিএনপির জিয়াউর রহমান বা জামায়াতের অলি আহমদ, সর্বপ্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মুফতি কাজী ইব্রাহিম (রাঃ)!”

Fact-check report examines misleading media claims that Islamic speaker Mufti Kazi Mohammad Ibrahim declared Bangladesh’s independence in 1971, based on an edited video.
কাজী ইব্রাহিমের পুরো বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত ভিডিও কনটেন্টের স্ক্রিনশট

ভিডিওতে কাজী ইব্রাহিমকে বলতে শোনা যায়, “স্বাধীনতার ঘোষণা এই কাজী ইব্রাহিম দিছে, এইবার প্রথম। কেউ দেয় নাই, কেউ সাহস করে নাই। গান পয়েন্টে, গান পয়েন্টে দাঁড়াইয়া ‘স্বাধীন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’—এই কাজী ইব্রাহিমের ঘোষণা ছিল। একুশ সালে, ঠিক না বেঠিক? কার ঘোষণা ছিল? এই কাজী ইব্রাহিমের ঘোষণা ছিল। … রাজাকার ধর ধর মার মার’ এই ঘোষণা কার ছিল? কথা শুনতে হবে ইনশাআল্লাহ। স্বাধীনতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়া এটা আনছি, ঠিক না বেঠিক?”

কাজী ইসলামিক টিভি নামের এক ইউটিউব চ্যানেলে গত বছরের ২০ নভেম্বর প্রকাশিত মূল ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। আড়াই মাস পুরোনো এক ভিডিওতে ভারত প্রসঙ্গে আলোচনায় তিনি এ বক্তব্য দেন। ১ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের এই ভিডিও এর ৪৫ মিনিট ৩ সেকেন্ড থেকে কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে বলতে শোনা যায়, “স্বাধীনতার ঘোষণা এই কাজী ইব্রাহিম দিছে এইবার প্রথম, ২০২১ এর ২৭ সেপ্টেম্বর। কেউ দেয় নাই। কেউ সাহস করে নাই। এই র’য়ের দালালদের বিরুদ্ধে একটা টু শব্দ করার যখন সাহস ছিল না। ওই সময় র’এর স্তূপের মাঝখানে দাঁড়াইয়া গান পয়েন্টে, গান পয়েন্টে দাঁড়াইয়া ‘স্বাধীন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’, এই কাজী ইব্রাহিমের ঘোষণা ছিল। একুশ সালে ঠিক না বেঠিক? ‘র মুক্ত বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ কার ঘোষণা ছিল? এই কাজী ইব্রাহিমের ঘোষণা ছিল। ‘হিন্দুস্থানি রাজাকার, ধর ধর মার মার’ এই ঘোষণা কার ছিল? তো কথা শুনতে হবে, ইনশাআল্লাহ। স্বাধীনতার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়া এটা আনছে। ঠিক না বেঠিক?”

অর্থাৎ, মূল ভিডিও থেকে কাজী ইব্রাহিমের বলা তারিখ, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” এর অংশটি ও ‘হিন্দুস্থানি’ শব্দটি বলার সময় কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। সম্পাদিত এই ভিডিও ব্যবহার করে তিনি নিজেকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দাবি করছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ এর ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি কাজী ইব্রাহিমকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। রাতে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করার জন্য বাসায় গেলে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে প্রায় ২০ মিনিটের একটি বক্তব্য দেন। জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ফেসবুক লাইভে এসে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তি করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছিল গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগ। 

আরো কিছু লেখা