মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Inqilab Ajker Dainik AI image Houthi Attack

সৌদি বিমানবন্দরে হামলার প্রতিবেদনে এআই নির্মিত ছবি ব্যবহার ইনকিলাব ও আজকের দৈনিকের

মোঃ হিমেল হাসনাত রাফি

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার প্রতিবেদনে একটি ছবি ব্যবহার করেছে দৈনিক ইনকিলাব ও আজকের দৈনিক। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ব্যবহৃত ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। 

৮ অক্টোবর দৈনিক ইনকিলাবের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। ছবিতে একটি বিমানবন্দরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সেখানে কালো ধোঁয়া উড়ছে, পাশে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কার্ডে লেখা, “সউদীর দুই বিমানবন্দরে হুথির হা*ম*লা, বিদেশি নাগরিকসহ হ*তা*হ*ত ৩৬” (বানান অপরিবর্তিত)। প্রতিবেদনেও একই ছবি ব্যবহার করেছে দৈনিক ইনকিলাব।

গত ৬ অক্টোবর একই ছবি ব্যবহার করে সংবাদমাধ্যম আজকের দৈনিক “সৌদির বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা, বাব আল-মান্দেবে পাল্টা অগ্রযাত্রার দাবি” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

ছবির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। এতে ৪ আগস্ট (২০২৬) বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত “সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা চালাল হুথি বিদ্রোহীরা” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ছবির নিচের ক্যাপশনে লেখা, “এআই নির্মিত প্রতীকী ছবি”। এই ছবির সঙ্গে দৈনিক ইনকিলাব ও আজকের দৈনিকের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। 

অধিকতর যাচাইয়ে গুগলের সিনথআইডি ভেরিফিকেশন টুলে ছবিটি পরীক্ষা করা হয়। টুলটি ছবিতে সিনথআইডি ডিজিটাল ওয়াটারমার্কের সংকেত শনাক্ত করেছে। এর অর্থ হলো, ছবিটি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে গুগলের এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত। আরও নিশ্চিত হতে এআই শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশনে পরীক্ষা করলে ছবিটির এআই হওয়ার সম্ভাবনা দেখায় ৯৯.৯ শতাংশ। 

অর্থাৎ, সৌদির বিমানবন্দরে হামলার সংবাদে ইনকিলাব ও আজকের দৈনিকের ব্যবহৃত ছবিটি এআই নির্মিত। 

উল্লেখ্য, সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাতে পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, তুরস্কের ইয়েনি শাফাক ও বিমান চলাচলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এয়ারটাইম জানিয়েছে, ৬ ও ৭ অক্টোবর আভা ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন।

এআই নির্মিত ছবি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নীতিমালা

যুক্তরাজ্যের সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ফোর তাদের কনটেন্টের জন্য এআই-বিষয়ক সম্পাদকীয় নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দর্শককে বিভ্রান্ত করতে পারে, এমন সিনথেটিক মিডিয়া লেবেল ছাড়া ব্যবহার নিষিদ্ধ। বাস্তবতাকে ভুলভাবে উপস্থাপন বা বিকৃত করতে এআই ব্যবহার করা যাবে না। এআই দিয়ে কৃত্রিম উদ্ধৃতি, ফুটেজ বা ঘটনা তৈরি করাও নিষিদ্ধ।

বিবিসির এআই ব্যবহারের সম্পাদকীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিবিসি নিউজ, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বা তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতায় সরাসরি সংবাদ কনটেন্ট তৈরিতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা যাবে না। একমাত্র ব্যতিক্রম, এআই নিজেই যদি সেই সংবাদের বিষয় হয়। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের গবেষণা-ব্রিফিংয়ে নির্দেশিকাটির এই অংশ উদ্ধৃত হয়েছে। জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের তিন মূলনীতির একটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। নীতিতে বলা হয়েছে, এআই যুক্ত থাকলে দর্শক-পাঠককে তা জানাতে হবে। কেন ও কীভাবে এআই ব্যবহার হয়েছে, সেটিও ব্যাখ্যা করতে হবে।

আরো কিছু লেখা