
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্যারাসুট থেকে অবতরণের একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাইলট আটকের দৃশ্য। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি মূলত প্যারাসুট থেকে এক লিবিয়ান সেনার অবতরণের দৃশ্য, মার্কিন কোনো সেনা আটকের নয়।
অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাবাহ গত ৫ এপ্রিল তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করে। ৮ সেকেন্ডের এই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “মার্কিন পাইলটের আ’ট’ক হওয়ার ফুটেজ।” এছাড়া দৈনিক ইনকিলাব নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ১৬ সেকেন্ডের একই দৃশ্যের ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করতে দেখা যায়। ক্যাপশনে লেখা, “ফুটেজে ধরা পড়ল মার্কিন পাইলট আটক হওয়ার মুহূর্তের দৃশ্য।” এ ভিডিওটি ২৭ হাজারবার দেখা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক প্যারাসুট আরোহী মাটিতে অবতরণ করছেন এবং নিচে অপেক্ষারত একদল মানুষ তার দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কয়েকটি গাড়িও যাচ্ছে সেদিকে।
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিও থেকে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে লিবিয়া-ভিত্তিক একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন (১, ২, ৩) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব।

অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে একটি ভিডিও আপলোড থাকতে দেখা যায়। প্রতিবেদনের সেই ভিডিওটির দৃশ্যের সঙ্গে ফেসবুকে মার্কিন পাইলট আটকের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটির দৃশ্য হুবহু মিলে যায়। গত ২ মার্চ প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, লিবিয়ার বেনগাজিতে স্পেশাল ফোর্সের এক সদস্য ভাঙা পা সত্ত্বেও প্যারাসুট জাম্প সম্পন্ন করেন এবং সফল অবতরণের পর সহকর্মীরা তাকে অভিবাদন জানান।
অর্থাৎ, মার্কিন পাইলট আটকের ফুটেজ দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি একজন লিবিয়ান সেনার প্যারাসুট থেকে অবতরণের পুরোনো ভিডিও, যা বর্তমানে ভুয়া দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।