
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, দলটির ওপর থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চিঠি পাঠিয়েছে জাতিসংঘ। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের পাঠানো চিঠিতে এ ধরনের কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি।
আওয়ামী লীগ পরিবার নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সম্প্রতি ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে একজন সংবাদ পাঠককে বলতে শোনা যায়, “এদিকে ভারত ছেড়ে লন্ডন যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খেলা শুরু হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের। অবশেষে ৬০ দিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে জাতিসংঘের চিঠি। ভারতের চাপে ক্ষমতা হারাবেন তারেক রহমান।”

এরপর ভিন্ন আরেক নারীকে ভিডিওতে দেখতে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশটির সরকারকে চিঠি দিয়েছে জাতিসংঘ। চিঠিতে রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ওপর বলবৎ নিষেধাজ্ঞা কেন প্রত্যাহার করা হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।” ভিডিওটি এ পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে, শেয়ার হয়েছে দুইশত বারের বেশি। মন্তব্যে “জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু” লিখছেন অনেকে। একই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে আরও একাধিক ফেসবুক (১, ২, ৩), ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে জাতিসংঘ প্রকাশিত মূল চিঠিটি খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তারিখের চিঠিটি পাওয়া যায়। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে পাঠানো এই চিঠিতে জাতিসংঘ জানায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ সংগঠনের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার, পাশাপাশি জনজীবনে অংশগ্রহণের অধিকারের ওপর অপ্রয়োজনীয় ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ১৮ পৃষ্ঠার এই চিঠিতে ৬০ দিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া প্রসঙ্গে কিছু বলা হয়নি। বরং সেখানে জানানো হয়েছে, এই চিঠির বক্তব্য ও তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো যেকোনো উত্তর ৬০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গসহ যারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অপরাধ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত, তাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে বলে জোর দেওয়া হয় চিঠিতে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সম্পাদনা করে সাংবাদিক কাজী রুনার একটি সংবাদ বিশ্লেষণের ভিডিওর ১৩ সেকেন্ড যুক্ত করা হয়েছে। তবে, তার ৯ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের মূল ভিডিওতে ৬০ দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো দাবি করা হয়নি। তাছাড়া ভিডিওর শুরুতে যে সংবাদ উপস্থাপককে কথা বলতে দেখা যায়, তার ঠোঁটের নড়াচড়ার সঙ্গে শুনতে পাওয়া কথার অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয়।
অর্থাৎ, জাতিসংঘ ৬০ দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার বার্তা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি অসত্য।