
তেল আবিবের সাম্প্রতিক দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা গেছে ভিডিওটি তেল আবিবের নয়,বরং যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় এক বছর আগে ঘটা বিমান দুর্ঘটনার দৃশ্য।
ফেসবুকে একটি প্রোফাইল থেকে ৩৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “Donald J. Trump বস এগুলো কি হচ্ছে? আপনি থাকতে ১ ঘণ্টা আগে তেলআবিতে এগুলো হয়েছে! আ_মেরিকা তার সন্তানকে বাঁচাতে পারছেনা!” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটিতে পাঁচ শর অধিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। শেয়ার করা হয়েছে ২০ বারের অধিক।

ভিডিওটি একাধিক প্রোফাইল ও পেজ থেকে একই দাবিতে পোস্ট করতে দেখা যায় (১, ২, ৩)।
সত্যতা যাচাইয়ে কয়েকটি কিফ্রেম সার্চ করে ইউটিউবে অন্তত এক বছর আগে আপলোড হওয়া হুবহু একই দৃশ্যের একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা আছে, “ফিলাডেলফিয়ায় বিধ্বস্ত বিমানের আপডেট! কী হচ্ছে?” ইউটিউবে হাকান তুলুহান নামের একটি চ্যানেলে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আপলোড করা হয়েছিল।

অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে ফিলাডেলফিয়ায় বিমান বিধ্বস্তের একাধিক প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। গত বছর ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা আছে, “ফিলাডেলফিয়ায় বিমান দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত; বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন লেগেছে।”

প্রতিবেদনে ব্যবহৃত একটি ছবিতে দেখানো স্থানের সঙ্গে তেল আবিবের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওতে দেখানো স্থানের মিল রয়েছে। সিবিএস নিউজ ছাড়াও একাধিক সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল (১, ২, ৩)।

বিবিসির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একটি ছোট মেডিকেল ট্রান্সপোর্ট বিমান আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়লে ৭ জন নিহত এবং অন্তত ১৯ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে বিমানে থাকা ৬ আরোহীর সবাই মেক্সিকোর নাগরিক ছিলেন। অপর নিহত ব্যক্তি দুর্ঘটনার সময় মাটিতে অবস্থান করছিলেন। প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, উড্ডয়নের মাত্র এক মিনিটের মাথায় বিমানটি রুজভেল্ট মলের কাছাকাছি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছিল।